পুঠিয়ায় পুকুর খননের হিড়িক

  পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি ০১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হিড়িক

পুঠিয়ায় হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১১ দিন ধরে ২০টি পুকুর খননের কাজ চলছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ পুকুর খনন হচ্ছে।

এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে ফসলি জমিতে এক্সকেভেটরের মাধ্যমে রাতা-রাতি পুকুর খনন করছে। হাই কোর্টের রিটের সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর চারটি উপজেলায় কৃষি জমি নষ্ট করে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। থ্রইয়ার্স সোসাইটি ফরওথ্র নামক একটি মানবাধিকার সংগঠনের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ মার্চ ২০১৯ শুনানি শেষে এই আদেশ দেয়।

হাই কোর্টের আইনজীবী জালাল উদ্দিন উজ্জ্বল বলেন, শুনানি শেষে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলির সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ রুল জারি করে আদেশ দেন। রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ি, পবা, মোহনপুর ও পুঠিয়া উপজেলায় অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে কেউ যেন ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করতে না পারে সেজন্য নিয়মিত তদারকি করারও নির্দেশ দেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পর কয়েক দিন পুকুর খনন বন্ধ থাকার পর পুনরায় আবার খনন কাজ শুরু হয়। পুকুর খননকারীরা উপজেলা প্রশাসনের মোটা অংকের টাকা দিয়ে পুকুর খনন চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯ মার্চ জিউপাড়া ইউনিয়নে বিলমাড়িয়া বিলে একটি পুকুর খননের কাজ চলছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজে উপস্থিত হয়ে পুকুর খননকারী মালিককে তার অফিসে আসার আদেশ দেন। এরপরও অজ্ঞাত কারণে পুকুর খননের কাজ চলছে। পুঠিয়া উপজেলা সদরসহ শিলমাড়িয়া, ভালুগাছি, জিউপাড়া, বানেশ্বর, বেলপুকুর এলাকায় বেশি পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে।

দেখা গেছে বেশিরভাগ খননকৃত পুকুরগুলো ধান চাষের উপযোগী এবং বিভিন্ন বিলের নিচু জমি। অনেক স্থানে বর্ষা মৌসুমে বিলের পানি প্রবাহের গতিপদে পুকুরের বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। পুকুর কাটার বিষয়ে পুঠিয়া থানার ওসি শাকিল উদ্দিন আহম্মদ টাকার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, টাকার বিনিময়ে কোনো পুকুর কাটা হচ্ছে না। কয়েকটি পুকুর মালিক হাই কোর্টে রিট করে পুকুর খনন করছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওলিউজ্জমান বলেন, পুকুর খননের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে পুকুর মালিকরা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে পুকুর খননের কাজ করছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×