কুমিল্লায় সড়কে নৈরাজ্য : শেষ পর্ব

অদক্ষ চালকের হাতে স্টিয়ারিং

প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো ০৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নৈরাজ্য

কুমিল্লায় অর্ধলক্ষাধিক লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক সড়ক মহাসড়কে যানবাহন নিয়ে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কসহ জেলার সবক’টি ছোট-বড় সড়কে লাইসেন্সবিহীন এসব চালকরা যানবাহন চালাচ্ছে। এতে প্রতিনিয়তই নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।

কোনো প্রকার ট্রেনিং কিংবা লাইসেন্স ছাড়াই চালকরা জেলায় মাটিবাহী ট্রাক্টর, সিএনজি, ইজিবাইক ও ভটভটি সড়কে চালাচ্ছে। এসব বাহনের চালকরা জানেই না যে সড়কে যানবাহন চালাতে হলে বিআরটিএ থেকে ট্রেনিং এবং লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয়। যার ফলে দিন দিন দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি বেড়েই চলছে।

এদিকে এসব অদক্ষ চালকের হাতে যানবাহন দুর্ঘটনায় যাত্রী সাধারণ নিহত কিংবা হতাহত হলেও প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যস্থতার কারণে তারা শাস্তির আওতায় আসছে না। জানা যায়, কুমিল্লা জেলার সব সড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস লেগুনা, মারুতি, সিএনজি, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, ভটভটিসহ লো-স্পিডের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক যানবাহন চালকের কোনো প্রশিক্ষণ কিংবা লাইসেন্স নেই। অদক্ষ এসব চালকরা দেখেশুনে যানবাহন চালানো শিখলেও নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। তাদের জানা নেই ট্রাফিক আইন কিংবা মহাসড়কের নিয়ম-কানুন।

বিআরটিএ আইন সম্পর্কে মোটেও অবহিত নয় এসব চালকরা। স্থানীয় প্রশাসন এবং সড়ক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাকে ম্যানেজ করেই এসব চালকরা সড়কে নিয়মিত যানবাহন চালাচ্ছে। এতে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিরপরাধ নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। প্রতিদিনই অবৈধ ট্রাক্টর ও সিএনজিচালকদের ভুলের খেসারত দিচ্ছে সড়কে চলাচলকারীরা। ন্যায্য ভাড়া পরিশোধ করে যাত্রী সাধারণ সড়কে চলাচল করলেও অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকের কারণে যাত্রীরা প্রাণ দিতে হচ্ছে।

লো-স্পিডের এসব যানবাহন চালকদের ভুলে শত শত যাত্রীর প্রাণহানি এবং হাজার হাজার যাত্রী পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে। অবৈধ এসব যানবাহনের দুর্ঘটনায় যাত্রী সাধারণ প্রাণ হারালেও এর জন্য দায়ী চালকরা শাস্তির আওতায় আসছে না। প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্টদের তৎপরতায় অপরাধী চালকরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এতে দিন দিন অবৈধ এসব চালকরা আরও বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, জেলার সব সড়কগুলোতে ট্রাক্টর এবং সিএনজি চালকরা খুবই বেপরোয়া।

সড়কে কোনো নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা করে না এসব যানবাহন চালকরা। এতে ট্রাক্টর এবং সিএনজি বেশিরভাগ দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। এদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অর্থপেডিক বিভাগ, কুমিল্লা ট্রমা হসপিটালসহ নগরীর বেশ কয়েকটি হসপিটালের অর্থপেডিক বিভাগ ঘুরে ভোক্তভুগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগই সিএনজি ইজিবাইক ও লেগুনা, মারুতি দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে চিকিৎসাধীন আছে।

এসব হসপিটাল সূত্র জানায় প্রতিনিয়তই ট্রাক্টর, সিএনজি, ইজিবাইকসহ লো-স্পিডের যানবাহন দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে রোগীরা অর্থপেডিক বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছে। এদের মধ্যে কোনো কোনো রোগী প্রাণ হারাচ্ছে আবার কেউ কেউ জীবনের তরে পঙ্গুত্ব বরণ করছে।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কুমিল্লা অফিস সূত্র জানায়, নগরীসহ জেলার অভ্যন্তরে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস চালকদের মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ চালকের লাইসেন্স রয়েছে, বাকি ২০ ভাগ চালক অবৈধ। জেলার অভ্যন্তরে প্রায় ২৫ হাজার সিএনজি চলাচল করছে কিন্তু প্রশিক্ষণ কিংবা লাইসেন্স নেই কোনো চালকেরই। ৫ হাজারেরও বেশি মাটিবাহী ট্রাক্টর রয়েছে। এ বাহনটির চালানোর জন্য মাত্র ৩০-৪০ জনের লাইসেন্স রয়েছে, বাকিরা সবাই অবৈধভাবে ট্রাক্টর চালাচ্ছে।

এছাড়া লেগুনা মারুতি, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, ভটভটিসহ লো-স্পিডের কোনো যানবাহন চালকের লাইসেন্স নাই বললেই চলে। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনের কুমিল্লা জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব এবং অদক্ষ লাইসেন্সবিহীন চালকদের কারণেই সড়কে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে এবং নিরপরাধ মানুষগুলো প্রাণ হারাচ্ছে।

তিনি বলেন, লাইসেন্সবিহীন চালকরা যাতে কোনো অবস্থাতেই যানবাহন চালাতে না পারে সে লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। এ বিষয়ে কুমিল্লা বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আশরাফ ছিদ্দিকী বলেন, অবৈধ যানবাহন এবং লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে কিন্তু জনবল সংকটের কারণে তা বৃহৎ আকার করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশকে বেশি তৎপর হতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×