ঠাকুরগাঁওয়ে আত্মগোপনে বিএনপি নেতাকর্মীরা

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের পাশাপাশি সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে দলীয় চেয়ারপারসনের রায় ঘোষণার দিনও শোডাউন করতে পারেনি বিএনপি। অপরদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতঙ্কে হঠাৎ গাঁ-ঢাকা দিয়েছেন। এ নিয়ে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশা ব্যক্ত করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের পর কেন্দ্রঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান তৈমুর রহমান সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিনসহ গুটিকয়েক নেতাকর্মীকে দেখা গেছে। গ্রেফতারের ভয়ে বাকি অঙ্গসংগঠনের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতাকর্মী বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আসেননি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের ভয়ে বাড়ির ছাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ লক্ষ্য করা গেছে। আর বাকি উপজেলাগুলোতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বিএনপি। সদর উপজেলা বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ে কয়েক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সুবিধাবাদী। এতদিন আমাদের ব্যবহার করেছে। বিভিন্ন বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে মামলা ও জেলহাজতে গিয়েছি। কিছুদিন খোঁজখবর নেয়ার পর এখন আর কেউ যোগাযোগ পর্যন্ত করে না। মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে আমরা এখন পঙ্গু। কিন্তু দলকে ভালোবাসি বলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবারও আন্দোলনে নামতে রাজি আছি। জেলা বিএনপির নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারি না। নিয়মিত পুলিশি অভিযানে সবাই আতঙ্কিত। তৃণমূল বিএনপির কর্মীরাও ঘরছাড়া। গণতন্ত্র নেই এ দেশে, সাধারণ মানুষ মনের কথা বলতেও পারে না ভয়ে। পুলিশ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ভাংচুর, প্রিসাইডিং অফিসার হত্যাসহ দেড় শতাধিক মামলায় প্রায় ৪ হাজার আসামি করে মামলা হয়েছে।

এসব মামলার অনেক আসামি দীর্ঘদিন জেল খেটেছেন। বর্তমানে মামলার হাজিরা দিচ্ছেন নিয়মিত। ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন জানান, সরকার পুলিশ বাহিনীকে দলীয়ভাবে ব্যবহার করছে। আমরা প্রতিবাদ সভা, মিছিল ও দলীয় কার্যালয়ে পর্যন্ত আসতে পারি না। ইউনিয়ন পর্যায়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতিদিন গ্রেফতার করছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় ঘোষণার ওপর আমাদের পরবর্তী আন্দোলন নির্ভর করছে। ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ বলেন, জেলার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সব ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশ সদা প্রস্তুত। বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে রাস্তায় নৈরাজ্য করতে নামতে দেয়া হবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter