তারাগঞ্জে মাছ চাষে সফল আশিক

লাভজনক হওয়ায় ঝুঁকছে যুবকরা

  তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বল্প পুঁজি আর উদ্যোগ। একটু সম্বল নিয়ে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক। সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থানের। আর তা জাতীয় অর্থনীতিতেও রেখেছে ব্যাপক ভূমিকা। মাছ চাষ করে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লাভ করেছেন তারা। রেণু পোনা তারাগঞ্জের পুরো উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলায় সরবরাহ করছেন। এসব খামারে শত শত লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। চাষীরা মনে করছেন সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ আর সহযোগিতা পেলে অনেক বেকারই মাছ চাষে আগ্রহী হবেন। আর জাতীয় অর্থনীতিতে তা আরও ভূমিকা রাখতে পারবে। খামারগুলোতে রুই, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, সরপুঁটি, কাতল মাছের রেণু পোনা এবং মনোসেক্স তেলাপিয়া, দেশি শিং মাগুর মাছের পোনা উৎপাদন করছেন চাষীরা। নিজস্ব পুকুর বা জলাধার লিজ নিয়ে মাছের রেণু পোনা ও পোনা উৎপাদন করে বিক্রি করছেন চাষীরা। তারাগঞ্জে অনেক দরিদ্র এবং বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের পদ দেখিয়েছে মাছ চাষ। উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের আশিকুর রহমান আশিক শখ করে মাত্র ৬০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ২০১২ সালে নিজেদের ৪টি পুকুরে শুরু করেন মাছের রেণু পোনা উৎপাদনের কাজ। তারপর রংপুর কারমাইকেল কলেজ মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি মাছ চাষে ঝুঁকে পড়েন। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা আশিকের শ্রম, মেধা দেখে মৎস্য চাষের ওপর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। বর্তমানে নিজেদের ৯টি পুকুরে চালিয়ে যাচ্ছেন মাছ চাষ। আশিক ২০১৬ সালে মৎস্য উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষী নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতি বছর ২ টন পোনা বিক্রি করেন তিনি। ৬ জন কর্মচারী কাজ করেন তার খামারে। তারা প্রত্যেকে প্রতি মাসে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পাচ্ছেন। এভাবে অনেক বেকারেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাছ চাষের মাধ্যমে। চাষীদের অনেকেই মৎস্য অধিদফতরের অধীনে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। আশিকুর রহমান আশিক জানান, জয়পুরহাট থেকে অনার্স ও রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করেও চাকরির চেষ্টা করেনি। কারণ বাংলাদেশের কৃষিখাতে শিক্ষিত জনগণের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে এটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে শক্তিশালী করতে হবে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এবং ব্যাংকগুলো থেকে সহজশর্তে ঋণের ব্যবস্থা থাকলে অনেক বেকারের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.