ছাতকে হাওর রক্ষাবাঁধের কাজে ধীরগতি

এখনও কাজের প্রকল্প তৈরি করতে পারেনি পাউবো

  ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছাতক উপজেলায় হাওর রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজের ধীরগতি হওয়ায় কৃষকদের মনে শঙ্কা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। পাউবোর দেয়া কার্যাদেশ অনুযায়ী গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলার নাইন্দার হাওর ও ডেকার হাওরে কাজ শুরু হলেও এখনও শুরু হয়নি চাউলীর হাওরের বাঁধের কাজ। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করা হয় তাহলে আগামী বোরো ফসলও বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। জানা যায়, ১৫ জানুয়ারি উপজেলা সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খানের সভাপতিত্বে এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে উপজেলার হাওর রাক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ৭টি পিআইসি গঠন করা হয়। এছাড়া ১৪ সদস্যবিশিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটি গঠন নিয়েও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে নির্বাহী কর্মকতার বিরুদ্ধে।

গত ২৮ নভেম্বর উপজেলা কর্তৃক প্রেরিত ৩১টি স্কিমের মধ্যে ৭ জানুয়ারি জেলা কমিটির সভায় অনুমোদিত হয় ৭টি কমিটি। উপজেলা কমিটিকৃত অনুমোদিত ৩১টি স্কিমের মধ্যে ২৪টি বাতিল ও ৭টি স্কিম বোডের নিয়ন্ত্রণে আলোকে রাখা হয়।

নাইন্দার হাওরে ১৫ লাখ ৭ হাজার ৯০ টাকা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য এডিপি থেকে ৫১ লাখ ৯৪ হাজার এবং এনডিআর থেকে ২০ লাখ টাকা, ডেকার হাওরের জন্য এডিপি থেকে ১ লাখ ৫৯ টাকা এনডিআর থেকে ২৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং চাউলীর হাওরের জন্য এনডিআর থেকে ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

নাইন্দার হাওর এবং ডেকার হাওরে বাঁধের কাজ শুরু হলেও চলছে ধীরগতিতে। এ অবস্থায় যথাসময়ে বাঁধের কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। পাউবোর বেঁধে দেয়া সময় পার হয়ে গেছে। তবে দু-একদিনের মধ্যেই বাঁধের কাজ শুরু হবে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট দফতর। বেড়িবাঁধের কাজ এখনও শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ কৃষকরা। এমনিতেই গত বছরের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ও টানা তিনবারের ফসলহানিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার সহস্রাধিক কৃষক।

এবছরও যদি বাঁধে অনিয়ম, সিন্ডিকেট দুর্নীতি ও কালক্ষেপণের কারণে ফসলহানি হয় তাহলে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না কৃষকদের। তাই যত দ্রুত সম্ভব বাঁধগুলোর কাজ শেষ করার দাবি জানান ছাতকবাসী।

উপজেলার চাউলীর হাওর এলাকার বর্গাচাষী কৃষক আবদুল হান্নান বলেন, ‘আমরা অনে একবারে দিশেহারা। টানা তিন বছর ধান হারাইছি। ই বছরও ধান রোয়াইছি। হুনছি এবো বাঁন্দের কামও শুরু অইছে না। আমরার চাউলীর বান্দ যুদি তারাতারি বাঁন্দা না অয়, তাইলে ইবারও ধান আরাইমু।’

এ ব্যাপারে ছাতক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটিরিং কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উল্লাহ বলেন, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কাজের প্রাক্কলন প্রস্তুত করতে পারেনি পাউবো। বাঁধের প্রাক্কলন পেয়েছি। তাদের কার্যাদেশও দেয়া হয়েছে। দু-একদিনের মাঝে কাজ শুরু হবে। বাকিগুলোতে ল্যান্ডসার্ভে টিম কাজ করছে। কাজ শেষ হলেই বাঁধের কাজ শুরু হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter