সকালের ট্রেন আসে রাত ১২টায়
jugantor
তিস্তা কুড়িগ্রাম-রমনা রেলপথ
সকালের ট্রেন আসে রাত ১২টায়

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো  

১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভাঙা কাঠের স্লিপার, মাটি সরে গেছে, মাঝখানে পাথর নেই, দুর্বল সিগন্যালিং ব্যবস্থা আর কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে তিস্তা-কুড়িগ্রাম-রমনা রেল যোগাযোগ। এ পরিস্থিতিতে মনে হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের এই রেলপথটি যেন অভিভাবকহীন। ইতোমধ্যেই এই রুটে বন্ধ হয়ে গেছে রমনা মেইলসহ তিনটি ট্রেন। চালু আছে শুধু রমনা লোকাল এবং একটি শাটল ট্রেন। তাও বেহাল রেলপথের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এ ট্রেনটি চলাচল করছে। হতবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে কর্মচারী সংকটের কারণে স্টেশনে ট্রেনের হুইসেল শুনে সিগন্যাল ডাউন এবং আপ করা হয়। এই রেলপথের আটটি স্টেশনের মধ্যে শুধু একটিতে কাবিল উদ্দিন নামের একজন স্টেশন মাস্টার আছেন। বাকি সাতটিতে বুকিং সহকারীরাই একাধারে স্টেশন মাস্টার, পয়েন্টার, সিগনাল আপ-ডাউনার, ঝাড়ুদারের কাজ করে এ রেলপথে যাত্রীসেবা দিচ্ছেন। তাই এখন এই রেলপথ চালু, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ও সেবার মান বাড়ানোসহ রেলপথের সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে এলাকাবাসী। আন্দোলনকারীরা বন্ধ করে দেয়া তিনটি ট্রেনসহ ভাওয়াইয়া এক্সপ্রেস নামের একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন। সরেজমিন অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা-রমনা রেলপথের বর্তমানে সর্বোচ্চ গতি ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। এই রুটে রমনা লোকাল ট্রেন চালু থাকলেও সেটির শিডিউল নেই। সকাল ১০টার ট্রেন আসে কখনও ১২টায়, কখনও বিকালে। কখনও রাতে। শুধু রংপুর এক্সপ্রেসের শাটল ট্রেনটি সময়মতো আসে। এই রুটের ট্রেন লাইনের ৭০ ভাগ স্থানেরই পাথর নেই। কাঠের স্লিপারগুলোও ভেঙে গেছে। সেগুলো ক্ষয়ে গেছে। রেললাইন মিশে গেছে মাটির সঙ্গে। ফলে চালু থাকা ট্রেন দুটিও চলছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। লেভেলক্রসিংগুলোতে কোনো গেটম্যান না থাকায় এই রুটে চলাচলকারী ট্রেনটি অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। গত ২৫ বছরে এখানে ছোট বড় চার হাজার দুর্ঘটনা ঘটেছে। ৫০ কোটি টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতিসহ একাধিক জীবনহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, মালামাল পরিবহনের আয় থেকে এক রকমভাবে এই রেলপথটি বর্তমানে চলছে। তিস্তা-রমনা রেলরুটে স্টেশনে সংখ্যা আটটি। এর মধ্যে তিস্তা, কুড়িগ্রাম, রমনা বাজার রেলওয়ে স্টেশন তিনটি বি-শ্রেণীর এবং সিঙ্গার ডাবরিহাট, বালাবাড়ী, টগরাইহাট ও পাঁচপীর স্টেশন পাঁচটি সি-শ্রেণীর। ইতোমধ্যে পুরাতন কুড়িগ্রাম স্টেশনটি ব্যয়বহুল হওয়ার অজুহাতে কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দেয়। কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক, বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী আহ্বান হাবিব নীলু বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের দাবি রমনা-তিস্তা রুটে ভাওয়াইয়া এক্সপ্রেস নামের একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করার। এসব বিষয়ে লালমনিরহাট রেলওয়ে ডিভিশনের ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, আমি অতি সম্প্রীতি জয়েন করেছি। এই রুটে বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা ভাওয়াইয়া এক্সপ্রেস নামের কোনো আন্তঃনগর ট্রেন চালু কিংবা রেলরুট সংস্কারের ব্যাপারে বর্তমানে কোনো উদ্যোগ নেই। তবে এই রেলরুটটি যুগোপযোগী করে ট্রেন চালু করলে জনগণের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের অনেক রাজস্ব আদায় হবে।

তিস্তা কুড়িগ্রাম-রমনা রেলপথ

সকালের ট্রেন আসে রাত ১২টায়

 মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো 
১২ এপ্রিল ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভাঙা কাঠের স্লিপার, মাটি সরে গেছে, মাঝখানে পাথর নেই, দুর্বল সিগন্যালিং ব্যবস্থা আর কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে তিস্তা-কুড়িগ্রাম-রমনা রেল যোগাযোগ। এ পরিস্থিতিতে মনে হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের এই রেলপথটি যেন অভিভাবকহীন। ইতোমধ্যেই এই রুটে বন্ধ হয়ে গেছে রমনা মেইলসহ তিনটি ট্রেন। চালু আছে শুধু রমনা লোকাল এবং একটি শাটল ট্রেন। তাও বেহাল রেলপথের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এ ট্রেনটি চলাচল করছে। হতবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে কর্মচারী সংকটের কারণে স্টেশনে ট্রেনের হুইসেল শুনে সিগন্যাল ডাউন এবং আপ করা হয়। এই রেলপথের আটটি স্টেশনের মধ্যে শুধু একটিতে কাবিল উদ্দিন নামের একজন স্টেশন মাস্টার আছেন। বাকি সাতটিতে বুকিং সহকারীরাই একাধারে স্টেশন মাস্টার, পয়েন্টার, সিগনাল আপ-ডাউনার, ঝাড়ুদারের কাজ করে এ রেলপথে যাত্রীসেবা দিচ্ছেন। তাই এখন এই রেলপথ চালু, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ও সেবার মান বাড়ানোসহ রেলপথের সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে এলাকাবাসী। আন্দোলনকারীরা বন্ধ করে দেয়া তিনটি ট্রেনসহ ভাওয়াইয়া এক্সপ্রেস নামের একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন। সরেজমিন অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা-রমনা রেলপথের বর্তমানে সর্বোচ্চ গতি ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। এই রুটে রমনা লোকাল ট্রেন চালু থাকলেও সেটির শিডিউল নেই। সকাল ১০টার ট্রেন আসে কখনও ১২টায়, কখনও বিকালে। কখনও রাতে। শুধু রংপুর এক্সপ্রেসের শাটল ট্রেনটি সময়মতো আসে। এই রুটের ট্রেন লাইনের ৭০ ভাগ স্থানেরই পাথর নেই। কাঠের স্লিপারগুলোও ভেঙে গেছে। সেগুলো ক্ষয়ে গেছে। রেললাইন মিশে গেছে মাটির সঙ্গে। ফলে চালু থাকা ট্রেন দুটিও চলছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। লেভেলক্রসিংগুলোতে কোনো গেটম্যান না থাকায় এই রুটে চলাচলকারী ট্রেনটি অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। গত ২৫ বছরে এখানে ছোট বড় চার হাজার দুর্ঘটনা ঘটেছে। ৫০ কোটি টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতিসহ একাধিক জীবনহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, মালামাল পরিবহনের আয় থেকে এক রকমভাবে এই রেলপথটি বর্তমানে চলছে। তিস্তা-রমনা রেলরুটে স্টেশনে সংখ্যা আটটি। এর মধ্যে তিস্তা, কুড়িগ্রাম, রমনা বাজার রেলওয়ে স্টেশন তিনটি বি-শ্রেণীর এবং সিঙ্গার ডাবরিহাট, বালাবাড়ী, টগরাইহাট ও পাঁচপীর স্টেশন পাঁচটি সি-শ্রেণীর। ইতোমধ্যে পুরাতন কুড়িগ্রাম স্টেশনটি ব্যয়বহুল হওয়ার অজুহাতে কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দেয়। কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক, বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী আহ্বান হাবিব নীলু বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের দাবি রমনা-তিস্তা রুটে ভাওয়াইয়া এক্সপ্রেস নামের একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করার। এসব বিষয়ে লালমনিরহাট রেলওয়ে ডিভিশনের ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, আমি অতি সম্প্রীতি জয়েন করেছি। এই রুটে বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা ভাওয়াইয়া এক্সপ্রেস নামের কোনো আন্তঃনগর ট্রেন চালু কিংবা রেলরুট সংস্কারের ব্যাপারে বর্তমানে কোনো উদ্যোগ নেই। তবে এই রেলরুটটি যুগোপযোগী করে ট্রেন চালু করলে জনগণের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের অনেক রাজস্ব আদায় হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন