বন উজাড় করে রোহিঙ্গা বসতি

উখিয়ায় হুমকির মুখে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

  উখিয়া প্রতিনিধি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত উখিয়া-টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গা প্রায় ৫ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমিতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ঝুপড়ি নির্মাণ করে আশ্রয় নিয়েছে। এ বিপুল বনভূমি উজাড় হওয়ায় ৩৯৭ কোটি ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯৩ টাকার সমপরিমাণ জীববৈচিত্র্য ও বনসম্পদের ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সাড়ে ৩ হাজার একর বনভূমির প্রয়োজন রয়েছে। বনভূমি দখল অব্যাহত থাকার কারণে ভয়ানক পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে পড়েছে বনাঞ্চল। অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের চিহ্নিতকরণ সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে এ দেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে গত ১০ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত ১০ লাখ ৬২ হাজার রোহিঙ্গাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত এ রোহিঙ্গাদের বাসস্থান ও জ্বালানির সংস্থানে কার্যত বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে।অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নাগরিকদের চিহ্নিতকরণ কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে এ দেশের ভূমি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দ্রব্যমূলের গতি পরিবর্তন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হুমকির মুখে পড়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বনভূমির এ ক্ষতি হয়তো সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে কিছুটা পূরণ করা যাবে। আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যাতে উখিয়া-টেকনাফ ছাড়া অন্য কোনো স্থানে পাহাড় ও পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারে সে জন্য মাইকিং করে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যানবাহনের অভাবে প্রায় সময় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী টহল দিতে পারছে না, এ জন্য দ্রুত ৫০টি মোটরসাইকেল সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাছাড়া পুলিশ যেখানে থাকবে সেখানে সশস্ত্র অবস্থায় থাকতে হবে। এ বিষয় ইতিমধ্যে বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে। কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসনের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দোজা বলেন, আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই নতুন ক্যাম্প স্থাপন করার জন্য আরও সাড়ে ৩ হাজার একর জমির প্রয়োজন। এ জন্য জমি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান রোহিঙ্গা বসতির বাইরে বনভূমি জায়গা দখল করে কোনো রোহিঙ্গা যেন নতুন করে স্থাপন তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter