সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত

বিনা পাসপোর্টে যাত্রী পারাপার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

  কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে দিয়ে ভারতে অবৈধ যাতায়াত প্রতিনিয়িত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতে প্রবেশের সময় অথবা ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় কলারোয়া সীমান্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির হাতে প্রতি মাসে ধরা পড়ছে শিশুসহ অসংখ্য নারী-পুরুষ। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ধুড়দের আটক করা হলেও আটক হয় না দালালরা। সীমান্তের ধুড় পাচার ঘাট দিয়ে বিনা পাসপোর্টে শত শত নাগরিক অবাধে ভারতে যাতায়াত করছে। ফলে সরকার প্রতি বছর পাসপোর্ট ফি ও ভ্রমণ কর বাবদ কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। কলারোয়া সীমান্ত দিয়ে নদী পার হলে সরাসরি কলকাতার বাস পাওয়া যায়। কলারোয়ার কাকডাঙ্গা সীমান্ত থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৬৫ কিলোমিটার। সীমান্তের ঘনজনবসতি ও ঝোপজঙ্গলে লুকানোর সুযোগ রয়েছে। নদীতে রয়েছে শতাধিক নৌকা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চুক্তির মাধ্যমে নির্দেশনা মোতাবেক নৌকাগুলো বিনা পাসপোর্টের যাত্রী পারাপারের কাজ করে থাকে। ফলে সীমান্ত পথে অপেক্ষাকৃত নিরাপদে ভারতে যাতায়াত করা যায়। তাই দেশের বিভিন্ন এলাকার বিশেষ করে দেশের ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর, নড়াইল, মাগুরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলার লোকজন এই রুটে ভারতে যাতায়াত করে। এজন্য কলারোয়া সীমান্তে অন্তত ৮টি স্থানে ভারতে যাওয়ার ঘাট চালু রয়েছে। এ ঘাটগুলো হচ্ছে কেড়াগাছি সীমান্তের চারাবাড়ি ঘাট, কেড়াগাছি রথখোলা ঘাট, গাড়াখালী ঘাট, দক্ষিণ ভাদিয়ালী ইউসুফের ঘাট, উত্তর ভাদিয়ালী আনারুল ও রাজ্জাকের ঘাট, হিজলদী ঘাট, সুলতানপুর ঘাট ও চান্দুড়িয়া ঘাট। সীমান্তের এ ঘাটগুলো দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য মাথাপিছু দুই হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। সীমান্তের ঘাট মালিকরা এ টাকার বিনিময়ে অসাধু সীমান্তরক্ষীদের হাত করে নৌকাযোগে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেয় এবং ভারতীয়দের নিরাপদে দেশের অভ্যন্তরে বাসরুট সংলগ্ন ঘাটে পৌছে দেয়। আর কোনো কারণে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ হলে বিনা পাসপোর্টের লোকজন দালালদের আশ্রয়ে রাখা ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাসযোগে আসা লোকজন নিরাপদ স্থানে রাখা ও সীমান্তে পৌঁছে দেয়ার জন্য ঢাকা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বাগআঁচড়া, কাজিরহাট ঠাকুরবাড়ি, কলারোয়া বাজারের থানা মোড়ে ঘাট রয়েছে। অভ্যন্তর ভাগের ঘাটে মাথাপিছু ২০০ টাকা হারে আদায় করা হয়। কলারোয়া থেকে মোটরসাইকেল, ইঞ্জিনভ্যান এবং থ্রি-হুইলারযোগে বিনা পাসপোর্টের যাত্রীদের কাকডাঙ্গা সীমান্ত ফাঁড়ির ৫০ গজ সামনের রাস্তা এবং মাদরা সীমান্ত ফাঁড়ির গেটের ৫/৭ হাত দূরের পাকা সড়কে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। আবার একই সড়কে বিনা পাসপোর্টের যাত্রীদের সীমান্ত থেকে নিয়ে বাসরুটে পৌঁছে দেয়া হয়। কখনো সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ হলে গ্রামগঞ্জের ভেতর দিয়ে ভিন্ন রাস্তায় সীমান্তে নিয়ে যাওয়া বা আসা হয়। এভাবে অবৈধপথে প্রবেশ করা বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের হাতে ধরা পড়ার পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিজিবির হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু চোরাইপথে সরকারি কর ফাঁকি দিয়ে দু’দেশের মধ্যে বিনা পাসপোর্টে যাতায়াত রোধে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। কাকডাঙ্গা বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার হায়দার আলী খান পাচারকারী সিন্ডিকেটের ব্যাপারে জানান, সীমান্ত দিয়ে যে কোনো অপতৎপরতা রুখতে আমরা বদ্ধপরিকর। যারা ধুড় পাচারকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত তাদের আমরা আটক করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করে যাচ্ছি। যে কোনো মূল্যে আমরা সীমান্তকে নিরাপদ রাখব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter