ফুলবাড়ীতে ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলের বারান্দায় পাঠদান

  আবদুল আজিজ মজনু, ফুলবাড়ী ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঝুঁকিপূর্ণ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়লই ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক ভাঙা একটি টিনশেড ঘরে চালাচ্ছেন তার অফিস।

সরজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবনের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়েছে। শ্রেণীকক্ষের ভেতরের মূল পিলার ও বিমের পলেস্তারা ধসে পড়েছে। ফাটল ধরেছে ভবনের বিভিন্ন অংশে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল চন্দ্র রায় বলেন, বিদ্যালয় চলাকালীন দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।

মনে হয় এই বুঝি দুর্ঘটনা ঘটল। আমরা শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারছি না। অন্যদিকে ক্লাসও বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। ভবন নির্মাণ না হওয়ায় নিরূপায় হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দা এবং বিদ্যালয়ের ১৯৬৩ সালের নির্মিত পুরনো টিনশেড ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। সেটাও আবার ভগ্নদশা।

বিদ্যালয়ের সভাপতি আশরাফুল আলম জানান, ভবনটির অবকাঠামো অত্যন্ত দুর্বল। যে কোনো সময় বরিশালের মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে ভবনটি ভেঙে পুনর্নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি। স্থানীয় অভিভাবক আবদুর রাজ্জাক খন্দকার জানান, বিভিন্ন সময় স্কুলভবন সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

এ কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কম। সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া খাতুন জানান, ভয়ে ভয়ে ক্লাস নিচ্ছি। জানি না কখন দুর্ঘটনার শিকার হই। পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফুয়াদ মাহমুদ ও ৩য় শ্রেণীর মুবতাসিন জানায়, বিদ্যালয়ের ছাদ ফেটেছে। ভেঙে পড়তে পারে। ফলে ভবনে আর আমরা ক্লাস করি না। খোলা আকাশের নিচে এবং কোনো কোনো সময় বারান্দায় ক্লাস করছি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৩ সালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মিত হয় একটি টিনশেড বিল্ডিং ঘর। ১৯৯৫ সালে স্থানীয় এক ঠিকাদারের মাধ্যমে নিু মানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে একটি ৪ কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এখন বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আখতারুল ইসলাম জানান, ভবন ঝুঁকিপূর্ণেন বিষয়টি ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দফতরে ভবনের বিষয়টি অনলাইনে আবেদন করা হয়েছে। পরবর্তী সমর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×