ভূঞাপুরে বরাদ্দের টাকা লুটপাট

২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজ

  আসাদুল ইসলাম বাবুল, ভূঞাপুর ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বেশকিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নয়ন কাজের জন্য আসা বরাদ্দ টাকা হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ে কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ না করেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। সরজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় সংস্কার বা উন্নয়ন কাজের কোনো চিত্র দেখা যায়নি। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়গুলোর জন্য উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন সরকার ও গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিদ্যালয়প্রতি দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ আনেন বিশেষ কায়দায়। ফলে ওই দুই চেয়ারম্যান উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা অনিক সাহা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীনকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে কাজ না করেই টাকাগুলো উত্তোলন করেছেন। স্কুলের উন্নয়ন ও সংস্কার প্রত্যয়নের জন্য এলজিইডি কর্মকর্তা ও চেক বাগিয়ে নেয়ার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পিইডিপি-৩-এর আওতায় উপজেলার ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কারের জন্য বিদ্যালয়প্রতি দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ আসে। বিদ্যালয়গুলো হল- উপজেলার নিকরাইল সরকারি প্রাথমিক, সার পলশিয়া সরকারি প্রাথমিক, গোপালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক, মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক, চর কোনাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক, পাটিতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক, পশ্চিম দোভায়া সরকারি প্রাথমিক, বাইনতাইন সরকারি প্রাথমিক, হাউলভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক, দোভায়া সরকারি প্রাথমিক, পাঁচগাছি সরকারি প্রাথমিক, নলছিয়া সরকারি প্রাথমিক, পলশিয়া সরকারি প্রাথমিক, চর পাথাইলকান্দি সরকারি প্রাথমিক, রাউৎবাড়ি সরকারি প্রাথমিক, নলুয়া সরকারি প্রাথমিক, বীরামদী সরকারি প্রাথমিক, পশ্চিম ভূঞাপুর সরকারি প্রাথমিক, পুকুরিয়া শিয়ালকোল সরকারি প্রাথমিক, ঘাটান্দি সরকারি প্রাথমিক, ইবানী শিক্ষালয় সরকারি প্রাথমিক, বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব সরকারি প্রাথমিক ও শুশুয়া চর পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সরজমিনে নিকরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে দুটি দরজা ছাড়া কিছুই দেখা যায়নি। চিতুলিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ টাকার মাঠে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দ হলেও সেখানে এক তোলা মাটিও সেখানে পড়েনি। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দাবি, গাবসারার চেয়ারম্যান তাকে মাত্র ৭০ হাজার টাকা দিয়েছেন সেটাও আবার ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য বিদ্যালয়ে গেলে সেখানে কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ দেখা যায়নি।

এদিকে গত বছরের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বিদ্যালয় সংস্কার ও মেরামত কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের বিল-ভাউচার জমা দিতে লিখিত নির্দেশ দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীন। এছাড়া বিল-ভাউচারের সঙ্গে উপজেলা এলজিইডি কর্তৃক একটা প্রত্যয়নপত্র সংযুক্তিরও নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু প্রত্যেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের কোনো কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করেন। তবে বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দাবি, বিদ্যালয়ের বরাদ্দ পাওয়া টাকা হাতে পাইনি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও শিক্ষা কর্মকর্তার চাপে তারা ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে জমা দিয়েছেন। গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির বলেন, যেসব বিদ্যালয়ে বরাদ্দ এসেছিল সেই বিদ্যালয়ের সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ একটি কমিটির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকরা সম্পূর্ণ করে তারাই বিল-ভাউচার জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন। এখানে বিদ্যালয়ের টাকা আমার তোলার কোনো সুযোগ নেই।

নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন সরকারের সঙ্গে মোবাইলে বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে লাইন কেটেদেন।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনিক সাহার কাছে তথ্য চাইলে তিনি গড়িমশি করেন। পরে তথ্য দেয়ার আশ্বাস দিলেও তাকে আর পাওয়া যায়নি। তবে তিনি গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনিরকে দিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীন বলেন, স্থানীয় গাবসারা ও নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভিন্ন তদবির করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তারা বরাদ্দ এনেছেন। তারাই সব করেছেন। এছাড়া কয়েকটা বিদ্যালয়ে ঠিকমতো কাজ হয়নি। তাদের কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। বাকি বিদ্যালয়ে কাজ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×