নদীতে নদীতে বালু উত্তোলন

বরিশালে উদ্বিগ্ন সন্ধ্যা নদী পারের মানুষ

  সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল ব্যুরো ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের নদীতে নদীতে চলছে বালু উত্তোলন বাণিজ্য। আর এ কারণে ভাঙছে নদী ও দিশেহারা হয়ে পড়ছেন নদী পারের মানুষ। অনেকেই হয়ে পড়েছেন নিঃস্ব। এছাড়া ভাঙনের মুখে রয়েছে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য স্থাপনা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও বালুখেকোদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ নদী পারের বাসিন্দারা। এ অবস্থায় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও কোনো সুফল পায়নি বলে জানিয়েছেন জেলার বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের বড়চাউলাকাঠি জাঙ্গালীয়া এলাকার বাসিন্দা ছালাম ঢালী। তিনি বলেছেন, গত বছর ৩০ মে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে আমি চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এর কোনো সুফল আসেনি। বালু উত্তোলনের কারণে আমারসহ অন্যদের অনেক জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখনও জাঙ্গালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়চাউলাকাঠি এ রব মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কালীর বাজার ও ২টি মসজিদ ভাঙনের মুখে রয়েছে। এখানও সন্ধ্যা নদীতে ৬টি ড্রেজার ফেলে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা। বিষয়টি প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এদিকে চলতি মাসের ১৭ তারিখ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দীন আহমেদ একই বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল আসছে না।

জানা গেছে, শুধু রাতে নয় বালুদস্যু চক্র দিনেও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে থাকে। অনিয়মতান্ত্রিক ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে রাক্ষুসে সন্ধ্যা নদীর ভাঙন তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে বানারীপাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। একমাত্র সম্বল ভিটামাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। সবকিছু হারিয়ে অনেকেই এখন বেছে নিয়েছেন যাযাবর মানবেতর জীবন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখা হলে নদীর ভাঙন রোধে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বরিশাল-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহে আলম শপথ নেয়ার পূর্বেই বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন। তার এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এলাকাবাসী। কিন্তু কয়েক দিন না যেতেই নব্য বালুদস্যুরা ভিন্ন কৌশলে রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে চুরি করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে অনিয়মান্ত্রিকভাবে যত্রতত্র ভাবে বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে নদী শাসন বিশেষজ্ঞরা জানান, নদীর যে স্থানে ভাঙন তীব্ররূপ ধারণ করছে সেই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করলে নদীর গভীরতা আরও বৃদ্ধি পেয়ে আশপাশের এলাকাও ভাঙনের কবলে পতিত হয়। বালু দস্যুদের কারণে ইতিমধ্যে সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী উপজেলার উত্তর নাজিরপুর, দক্ষিণ নাজিরপুর, দাণ্ডয়াট, শিয়ালকাঠি, জম্বদ্বীপ, ব্রাহ্মণকাঠী, কাজলাহার, ডুমুরিয়া, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও মন্দিরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেছেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। বিভিন্ন স্থানে চিঠি দিয়েছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×