বৃদ্ধাশ্রমে ছাগল পালন

বালিয়াকান্দিতে বিদেশি অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ

  হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ী ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে পারিজাত এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমে এতিম শিশুদের দিয়ে ছাগল পালনের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মধুপুর গ্রামে ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ ‘পারিজাত এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রম’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। শুরু থেকেই ওই প্রতিষ্ঠানে কয়েকজন করে এতিম শিশুকে লালন-পালন করা হলেও সেখানে বৃদ্ধাশ্রমের কোনো কার্যক্রম এ পর্যন্ত চালুই হয়নি। অথচ বৃদ্ধাশ্রমের নামে দেশি-বিদেশি অনুদান এনে আত্মসাৎ করা হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে ১৭ জন ছেলে ও ১৫ জন মেয়েসহ ৩২ জন এতিম শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন প্রাক-প্রাথমিক, ৪ জন প্রথম শ্রেণীতে, ৩ জন দ্বিতীয় শ্রেণীতে, ৬ জন তৃতীয় শ্রেণীতে, ৫ জন চতুর্থ শ্রেণীতে এবং ৩ জন ষষ্ঠ শ্রেণীতে আশপাশের স্কুলে পড়ে। তাদের দেখভাল ও লেখাপড়ার জন্য ৪ জন স্টাফ আছে, তাদের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও দু’জন মহিলা।

সোমবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, এতিমখানার দু’জন স্টাফ শিশুদের পড়াচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর স্টাফদের আরেকজন আসেন। অপরজন ছুটিতে রয়েছেন। টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা থাকলেও এতিমখানায় নেই কোনো বাবুর্চি। স্টাফরা জানান, তারাই বাচ্চাদের সহযোগিতা নিয়ে রান্না-বান্না করেন। পাশের পুকুরে বাচ্চাদের নিয়ে গোসল করান। তবে রান্নার স্থান, শিশুদের পোশাক, টয়লেট, এমনকি গোসলের গামছাও খুব নোংরা। গোসল করার জন্য তেল-সাবানও নেই। দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনের ঘরেই শিশু ও স্টাফদের থাকা-খাওয়া, পড়াশোনা, ঘুমানোসহ যাবতীয় কাজ করতে হয়।

এই এতিমখানার পাশেই বৃদ্ধাশ্রমের জায়গায় করা হয়েছে ছাগলের ঘর। সেখানে বেশ কিছু ছাগল রয়েছে। এতিমখানার স্টাফ ও শিশুরাই সেগুলোর লালন-পালন করে।

প্রতিষ্ঠানের স্টাফ মো. টিপু বলেন, কোথায় থেকে ফান্ড আসে আমরা তার কিছুই জানি না। আমাদের বেতনসহ প্রতিষ্ঠানের সব খরচ প্রতিষ্ঠানের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয় থেকে আসে।

‘বৃদ্ধাশ্রমের জায়গায় ছাগল পালন কেন’ জানতে চাইলে শিমুল সরকার নামের আরেক স্টাফ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের আয়ের জন্য কিছু ছাগল পালন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য ওয়াছেল উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘কিছু বাচ্চা-কাচ্চা দেখা গেলেও এখানে যে কি হয় তা আমরা বলতে পারব না। তবে শুনেছি এই প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশ থেকে অনেক টাকা আসে।’ নারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি আমার বাড়ির পাশে হলেও আমি তাদের সম্পর্কে কিছুই জানি না।

অন্তত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ করার দরকার ছিল। এর আগে এই প্রতিষ্ঠান থেকে বাচ্চা হারিয়ে যাওয়ার এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নের ঘটনাও ঘটেছে। আমি যতদূর জানি প্রশাসনও বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা উচিত।’

বালিয়াকান্দি থানার ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, ‘ওই প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় একজন স্টাফকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছিল। এছাড়া সেখানকার একটি প্রতিবন্ধী শিশু হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় আমাকে খোঁজ নিতে বলেছেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যদি অনুমোদন না নিয়ে কার্যক্রম চালানো হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ ইউএনও মো. মাসুম রেজা বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে খতিয়ে দেখতে বলেছি। ইতিমধ্যে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তাদের কোনো অনুমোদন নেই। তাদের ব্যাপারে আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×