রাজাপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্প ২

তালিকায় সচ্ছলদের নাম

  আবদুল বারেক ফরাজী, রাজাপুর ২৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজাপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর গৃহনির্মাণ প্রকল্পে তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ‘জমি আছে ঘর নেই’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত এপ্রিল মাস থেকে উপজেলায় গৃহহীন পরিবারদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও দালাল চক্র গরিব গৃহহীন মানুষের কাছ থেকে ঘর দেয়ার নামে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে দ্বিতীয় ধাপে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৬টি ইউনিয়নে ১ লাখ টাকা মূল্যের ৩৬টি ঘর নির্মাণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২ লাখ টাকা মূল্যের ৩৭টি ঘর নির্মাণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত গৃহহীনদের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা প্রকৃত গৃহহীনদের নাম বাদ দিয়ে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তালিকায় সচ্ছল ও নিকট আত্মীয়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন গিয়ে সদর উপজেলার ফুলহার গ্রামের সাহেরা বেগম, কুদ্দুস হাওলাদার ও ফুলবানু। বড়ইয়া ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামের আয়শা খাতুন, ছত্তার হাওলাদার ও ফোরকান। শুক্তাগড় ইউনিয়নের সুলতান হোসেন, আতাহার আলী ও হাজেরা বেগম। সাতুরিয়া ইউনিয়নের নৈকাঠী গ্রামের নরেন্দ্রনাথ শীল, হেমায়েত উদ্দিন ও বিলকিস বানুসহ গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ইউপি সদস্যরা প্রতিটি ঘরের জন্য ৩০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করেছেন। যারা টাকা দিতে পেরেছেন তাদের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। অভিযোগকারীরা আরও জানান, প্রকৃতপক্ষে যারা গৃহহীন তাদের নাম বাদ দিয়ে সরকারি ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ব্যাপকভাবে স্বজনপ্রীতি করছেন। উপজেলা সদরের কৈবর্তখালী গ্রামের নূর বানু (৭০) বলেন, ‘এলাকার প্রভাবশালী এক ব্যক্তি ২ লাখ টাকার একটি সরকারি ঘর দেয়ার কথা বলে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। কিন্তু সামর্থ্য না টাকা দিতে পারিনি বলে তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। ওই সময় উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ইউনিয়নে কোনো ইউপি সদস্য ঘরের তালিকা করতে কোনো স্বজনপ্রীতি বা অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত নয়।

উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের স্কুল শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ও সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ আলম নান্নু জানান, এলাকার একটি দালালচক্র ঘর দেয়ার কথা বলে ইউপি চেয়ারম্যান ও সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায় করছে।

এ ব্যাপারে গৃহনির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, যারা গৃহহীন পরিবারের ঘর পরিদর্শন করে প্রকৃত গৃহহীনদের ঘর বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ইতোমধ্যেই কিছু এলাকা পরিদর্শন করেছি। যারা প্রকৃত পক্ষে ঘর পাওয়ার দাবিদার তারাই ঘর পাবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×