ডিম উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশ

হালদায় দূষণ মা মাছ নিধন

  আবু তালেব, হাটহাজারী ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছিল না অমাবস্যা বা পূর্ণিমার তিথি। তবে গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আকাশে শুরু হয় মেঘের গর্জন। রাত থেকে থেমে থেমে চলছে ভারি বৃষ্টি। পাহাড়ি ঢলও নামে। শনিবার সকালে মেঘের গর্জন, ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, ঘোলা পানি সব কিছু মিলিয়ে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার মিঠা পানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় রুই জাতীয় (রুই, কাতল, মৃগেল ও কালিবাউশ) দ্বিতীয় দফায় নমুনা মা-মাছ ডিম ছাড়ে। ওই দিন রাতে পূর্ণমাত্রার ডিম সংগ্রহ তথা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় নৌকা, জাল ও বালতিসহ নানা সরঞ্জাম নিয়ে অপেক্ষা করে ডিম আহরণকারীরা। রুই জাতীয় মাছের ডিম আহরণের অপেক্ষায় তখন হালদা নদীর পাড়ে চলেছিল উৎসবের আমেজ। রাত যত বাড়ে, তত মানুষের হাঁকডাক বাড়তে থাকে নদীতে। শনিবার রাত পৌনে ৯টা থেকে নদীতে জেলেদের জালে বাড়তে থাকে ডিম পাওয়ার পরিমাণ। হালদা নদীর চারটি পয়েন্টে মা-মাছ ধীরে ধীরে ডিম ছাড়তে শুরু করে। তবে রাত ১২টার দিকে পূর্ণমাত্রায় ছাড়ার পর শত শত ডিম আহরণকারী জাল ফেলে ডিম সংগ্রহে নেমে পড়েন। ভোররাত পর্যন্ত শত শত মৎস্যজীবী ২ শতাধিক নৌকায় ডিম আহরণ করেন। তবে মা-মাছের দেয়া সংগৃহীত নিষিক্ত ডিমের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ। ৭ হাজার কেজি হবে বলে জানিয়েছেন হালদা গবেষকরা। ফলে এ বছর আশানুরূপ ডিম আহরণ করতে না পারায় ডিম সংগ্রহকারীদের মাঝে হতাশার ছাপ পরিলক্ষিত হয়। সরেজমিন ডিম ছাড়ার স্থানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শনিবার বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে রোববার ভোররাত পর্যন্ত ৫ শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী ২৩০টি নৌকা, জাল ও বালতিসহ ডিম আহরণের নানা সরঞ্জাম নিয়ে হালদার হাটহাজারী ও রাউজান অংশের খলিফার ঘোনা, পোড়াকপালি, আজিমের ঘাট, নাপিতের ঘাট ও রামদাস মুন্সীরহাট প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় নৌকায় নদীতে অবস্থান নিয়ে ডিম সংগ্রহ করেছে। হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, শনিবার রাতে জোয়ার আসার পর মা-মাছ ডিম ছেড়ে দিয়েছে। তবে পরিমাণে একেবারেই কম। করণ অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ, ঘেরা-ভাসা জাল দিয়ে মা-মাছ নিধন, ইঞ্জিনচালিত নৌযান ও ড্রেজারের ঘূর্ণায়মান ডুবন্ত পাখার আঘাতে মা-মাছের মৃত্যু এবং রুই জাতীয় মা-মাছের অবাধ বিচরণে বাধা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া অপরিকল্পিত রাবার ড্যাম, পাহাড়ে তামাক চাষ ও এপ্রিল মাসের দিকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টি না হওয়ায় এমনটা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় দফায় মা-মাছ ডিম ছাড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশা করা যেতে পারে। তবে দ্বিতীয় দফা ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ ব্যাপারে হাটহাজারী ইউএনও রুহুল আমীন বলেন, হালদা নদীতে নির্বিঘ্নে মা-মাছ যাতে চলাচল করতে পারে, প্রতিদিন ড্রেজার দিয়ে হালদা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অবৈধ জাল ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা ধ্বংস এবং মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে রাতদিন ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে যুদ্ধ করেছি। গত সাত মাসে প্রায় ১ লাখ ঘনফুট বালু, ১ লাখ ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করেছেন। এদিকে সংগৃহীত মা-মাছের নিষিক্ত ডিমের পরিমাণ কম হওয়ায় হালদা পাড়ে কৃত্রিম রেণু পোনা উৎপাদনকারী ও বিক্রেতারা বেশ তৎপরতা চালাচ্ছে। এতে প্রকৃত ডিম সংগ্রহকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×