সিন্ডিকেটে সরকারি ধান ক্রয়

নাজিরপুরে কৃষকরা ক্রয়কেন্দ্রের ধারেকাছে যেতে পারছে না

  নাজিরপুর প্রতিনিধি ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পিরোজপুরের নাজিরপুরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে সরকারি ধান ক্রয়ের কার্যক্রম। ফলে প্রকৃত কৃষকরা ধান বিক্রিতে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার সহযোগিতায় এ চক্রটি কৃষকের বদলে ধান দিচ্ছেন। কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই ২৩ মে উপজেলার শ্রীরামকাঠি বন্দর সংলগ্ন খাদ্যগুদাম চত্বরে জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন চলতি বছরের ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

জানা যায়, নাজিরপুরে এ বছর ২৬ টাকা কেজি দরে ৪১১ টন ধান, ৩৬ টাকা কেজি দরে ৮৬৬ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। কিন্তু এবার মুনাফা বেশি হওয়ার কারণে একটি সিন্ডিকেট চক্রের দাপটে সাধারণ কৃষকরা ক্রয়কেন্দ্রের আশপাশেই ভিড়তে পারছেন না। কেউ ক্রয়কেন্দ্রে গেলেও ধান কেনা শেষ বলে সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার চিহ্নিত ফড়িয়ারা এবং সিন্ডিকেটের লোকজন সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি এবং ব্যাংক হিসাবের চেক কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যেসব কৃষকের ব্যাংক হিসাব নেই সেসব কৃষককে না জানিয়েই তার নামে ব্যাংকে হিসাব খোলা হচ্ছে। কৃষকের নামে ফড়িয়া ও সিন্ডিকেটের লোকজনের ধান দেয়ার কাজে সহযোগিতা করছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও খাদ্যগুদামের ইনচার্জ। তবে এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দ্বিগবিজয় হালদার কিছুই জানেন না বলে দাবি করে জানান, আমি ওই কমিটির একজন সদস্য মাত্র। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার কলারদোয়ানিয়ার মোস্তফা চৌকিদার, শ্রীরামাকাঠির আলম হাওলাদর, দেলোয়ার হোসেন, আসলাম ও ছাত্রলীগ নেতা শান্ত চক্রবর্তীসহ ক্ষমতাসীন দলের ১৮ জনের একটি সিন্ডিকেট নিজেরা কৃষক সেজে বা কৃষকদের কাছ থেকে কার্ড সংগ্রহ করে নানা কৌশলে গুদামে ধান সরবরাহ করছেন।

উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক সেলিম শেখ, রুহুল খান ও পারভেজ খানের কাছে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা তো কৃষক না, বাজারের বড় বড় ব্যবসায়ীরা প্রকৃত কৃষক। প্রতি বছর শুনতে পাই খাদ্যগুদামে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। আমরা সেখানে আমাদের ধান দিতে গিয়েও দিতে পারি না। আমাদের ধান না নিয়ে ট্রলার ও ট্রাকবোঝাই বড় বড় ব্যবসায়ীর ধান নেয়া হয়। এ বছরও গুদামে ধান দিতে গিয়ে ফিরে এসেছি।

এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য সরেজমিনে খাদ্যগুদামে গিয়ে ওসিএলএসডির সঙ্গে কথা বলতে গেলে সেখানে হাজির হয় ওই সিন্ডিকেটের অধিকাংশ সদস্যরা। তারা একপর্যায়ে ওসিএলএসডির পক্ষ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। ওসিএলএসডি স্বর্ণা রানী মৃধা জানান, ইতিমধ্যে উপজেলার শ্রীরামকাঠি, নাজিরপুর সদর ও সেখমাটিয়া ইউনিয়নের নির্ধারিত ধান ক্রয় শেষ হয়েছে। তবে ওই তিনটি ইউনিয়ন থেকে কোনো কোনো কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেছেন সে তালিকা তিনি দেখাতে পারেনি। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ধান সংগ্রহে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। নিয়মানুযায়ী তিনি কার্ডধারী কৃষকদের কাছে ধান সংগ্রহ করছেন।

ওই সিন্ডিকেটের সদস্য উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোস্তফা চৌকিদার বলেন, আমার ইউনিয়ন থেকে ২৫ টন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি একজন কৃষক হিসেবে ওই ধান সরবরাহ করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোজী আকতার বলেন, সরকারি ধান ক্রয়ে কোনো অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের জন্য ওসিএলএসডিকে বলা হয়েছে। তারপরও কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×