রৌমারীতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

  রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামচুল হকের ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে পরিষদের সদস্যসহ ইউনিয়নবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এছাড়াও নানা প্রকল্পে চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরে ১০ জন সদস্য লিখিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভাগসহ বিভিন্ন দফতরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় চেয়ারম্যান মো. শামচুল হক দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। তার দুর্নীতিতে এলাকা উন্নয়নবঞ্চিত হয়ে পড়েছে। টিআর, কাবিখা, জিআর, কাবিটা, ভিজিডি, এডিবি, এলজিএসপি, ননওয়েজ, রাজস্ব, হাটবাজার, ১% খাতের নিজের খেয়ালখুশিমতো করে থাকেন। ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সদস্যের সঙ্গে আলোচনা না করে নিজের ইচ্ছামতো খরচ করেন। অভিযোগ রয়েছে ইটালুকান্দা আদর্শগ্রাম বাইতুল নূরজামে মসজিদ ল্যাট্রিন নির্মাণ ৫০০০০ টাকা, ডিগীর চর আবু বক্করের বাড়ি হইতে জুলুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ২৫১৯২৬ টাকা, কাউনিয়ারচর ছায়দায়ের বাড়ি হতে একটি রাস্তার জন্য একাধিক প্রকল্পে, ৬ টন কাবিখা, ৩ টন টিআর, এলজিএসপি ৭৫ হাজার টাকা, হাটবাজারের ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা, রাজস্ব খাতে ৫০ হাজার টাকা, ১% খাতের ৪০ হাজার টাকা, এলজিএসপির ৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, এডিবি ৫৭ হাজার ৭৫০ টাকা, কর্মসৃজন শ্রমিকের ৩৪ হাজার টাকা কাজ না করে ভুয়া বিল ভাউচার উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

এমনকি ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে বিভিন্ন খাতে একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে নামমাত্র কাজের অজুহাতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চেয়ারম্যান মো. শামচুল হক তার স্বেচ্ছাচারিতা আর এখতিয়ারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ইউপি সদস্যসহ এলাকাবাসী। এ নিয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দ্বন্দ্ব চরমে। এমনকি একাধিকবার লাঞ্ছিত, অবরুদ্ধ ঘটনাও বাদ পড়েনি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মসজিদ, মক্তব, মাদ্রাসা, ঈদগাহ মাঠসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সরকারি অনুদানের টাকা ও বিভিন্ন গ্রামে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেয়ার নামে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে ভিজিডি তালিকা প্রণয়নে ঘুষ গ্রহণসহ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ভিজিডি তালিকায় নাম ওঠানোর কথা বলে অসহায় দুস্থদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করছেন। বাদ পড়েনি বয়স্কভাতা ও বিধবাভাতা। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে নির্বাচিত ১০ ইউপি সদস্য তার বিরুদ্ধে অনাস্থাসহ বিভাগসহ বিভিন্ন দফতরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সদস্য এ প্রতিনিধিকে জানান, তিনি বিএনপির ক্যাডার হিসেবে ক্ষমতার দাপট দেখান। এছাড়াও তিনি একজন বিসিআইসি সার ডিলার ও প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তিনি আমাদেরকে নানা প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ মামলার হুমকি দেন। সদস্য শের আলী জানান এসব বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করলে ভূরি ভূরি প্রমাণ মিলবে। দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামচুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো দম্ভ করে বলেন, লেখালেখি করে আমাকে কিছুই করতে পারবেন না। রৌমারী উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবদুল্লাহ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ইউএনও’র সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউএনও দীপঙ্কর রায় বলেন, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×