চরভদ্রাসনে এইচবিবি রাস্তা নির্মাণের ২ সপ্তাহেই ধস

প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরে বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের জেলাখানা থেকে পূর্বদিকের কামারডাঙ্গী পর্যন্ত এক হাজার চারশ’ মিটার এইচবিবি রাস্তা সদ্য নির্মাণের পর পনেরো দিনের মধ্যে বিভিন্ন অংশে ধস দেখা দিয়েছে। নিুমানের ইট এবং অপর্যাপ্ত বালু দিয়ে রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। চলতি অর্থবছর ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাটি টেকসই হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। নিুমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে আসন্ন বর্ষা মৌসুমের ভারি বর্ষণ ও বানের পানির চাপে রাস্তাটির অস্তিত্ব নিয়ে টান পড়বে বলেও অনেকে মনে করছেন।

শুক্রবার বিকালে সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, সদ্যনির্মিত এইচবিবিকরণ রাস্তাজুড়ে সারিবদ্ধ বিছানো ইটের ফাঁকে এবং উপরের অংশে বালু নেই। ফলে রাস্তার ওপর চলমান কোনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ রাখা কষ্টকর মনে হচ্ছে। গত ক’দিনের দফায় দফায় বৃষ্টিতে বিভিন্ন অংশের ইট ধসে রাস্তার ঢালে পড়ে রয়েছে। বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম (৩৮) জানান, রাস্তাটি নির্মাণের সময় নিুমানসামগ্রী ব্যবহার না করার জন্য আমরা অনেক আপত্তি করেছি। রাস্তায় ব্যবহৃত ইটের নিচে বালু না দিয়ে পার্শ্ববর্তী ফসলি মাঠের মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু জেলা শহরের প্রভাবশালী ঠিকাদার শিহাব কনস্ট্রাকশন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি কাজে দায়িত্বরত উপ-প্রকৌশলী তানভীর আহাম্মেদ একই শহরের লোক হওয়ায় তারা আমাদের কথায় কোনো

কর্ণপাত করেন নাই। রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী এক মোটসাইকেল চালক মো. লিয়াকত আলী লাভলু (৪০) বলেন, মাত্র ক’দিন নির্মিত এ রাস্তায় মোটরযান নিয়ে আসার পথে বিছানো ইটের নিচে ও ফাঁকে বালু না থাকায় দু’দফায় গাড়ি নিয়ে পড়ে গেছি। তিনি আরও জানান, রাস্তাতো গড়ে নাই, মানুষ মারার ফাঁদ তৈরি করেছে।’

এ ব্যাপারে শুক্রবার বিকালে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার শিহাব আহাম্মেদের সঙ্গে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি কাজে দায়িত্বরত উপ-প্রকৌশলী তানভীর আহাম্মেদ জানান, রাস্তাটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে সত্য কিন্তু আমাদের কাছে এখনও হ্যান্ডওভার করা হয়নি। কাজেই রাস্তাটি বুঝে নেয়ার সময় আমরা অনিয়মগুলো সেরে নেব। আর উপজেলা প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, এক হাজার চারশ’ মিটার এইচবিবি রাস্তার ওপর পর্যাপ্ত বালু ঢালা ও ধসে পড়া রাস্তা পুনর্নির্মাণ কাজ ওই ঠিকাদারকেই করতে হবে।