চাঁদপুরে এমপিও বাণিজ্য

শিক্ষককে দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা

  চাঁদপুর প্রতিনিধি ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) থেকে নিয়োগ দেয়ার নির্দেশের কারণে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আগে যে স্থানীয়ভাবে নিয়োগ বাণিজ্য হতো সেটি অন্তত বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু আরেক বাণিজ্য তাদের পিছু ছাড়ছে না। তাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে ‘এমপিও বাণিজ্য’ নামে আরেক বাণিজ্য। তবে এ বাণিজ্য আগেও ছিল। আগে দুই খাতে টাকা ঢালতে হতো। আর এখন এক খাতে দিতে হচ্ছে। এখন এই এমপিও বাণিজ্যের শিকার হচ্ছেন সারা দেশের তো বটেই চাঁদপুর জেলারও শত শত শিক্ষক। অথচ একটি টাকাও নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের থেকে নেয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। আর এ অবৈধ কাজটিই করে যাচ্ছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং ম্যানেজিং কমিটির কিছু অসাধু লোক মিলে। ‘এমপিও করাতে খরচ লাগবে’ এ কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নিচ্ছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান। একেকজন শিক্ষক থেকে ৩০-৪০ এমনকি ৫০ হাজার টাকা, ক্ষেত্র বিশেষে এরচেয়েও বেশি আদায় করা হচ্ছে। শিক্ষকরাও বাধ্য হয়ে দিচ্ছেন তাদের বেতন ধরানোর জন্য।

চাঁদপুর সদরের পশ্চিম সকদী জনতা হাইস্কুলে সম্প্রতি তিনজন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমপিও করাতে খরচ বাবদ ৩০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম। এমপিও করতে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে দিতে হয় এসব খরচ বলে জানান তিনি। সারোয়ার সাজ্জাদ নামে এক সহকারী শিক্ষকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেয়ার পরও তার এমপিওভুক্তি না হওয়ায় বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। জনতা উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন খোকন পাটোয়ারী এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে কথা হয় চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফি উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, চাঁদপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিনশ’র মতো শিক্ষক এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগ হয়েছে। তাদের অনেকেই নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে যোগদান করেছেন, এমপিও হয়ে গেছে, আবার কারও কারও প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় আছে।

এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে যে শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয়া হচ্ছে সে বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে একটি টাকাও কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে নেয়া যাবে না। এমপিও করাতে খরচ, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ইত্যাদি নানা অজুহাতে কোনো টাকা নেয়া যাবে না। এ ধরনের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সে প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। বিশেষ করে চাঁদপুর হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রীর জেলা। এ জেলায় এ ধরনের অবৈধ ও অনৈতিক অর্থ বাণিজ্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের অবৈধ বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে বলে তিনি হুশিয়ার করে দেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×