শালবন-জাদুঘর সড়ক বেহাল

কুমিল্লা কোটবাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কের অন্তত ৩০টি অংশে খানাখন্দ

প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  তবারক উল্লাহ কায়েস, কুমিল্লা ব্যুরো

প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধবিহার, নব শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কুমিল্লা কোটবাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের অন্তত ৩০টি অংশে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শালবন বৌদ্ধবিহার, ময়নামতি জাদুঘরসহ দর্শনীয় স্থানগুলোর দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রবেশের একমাত্র সড়কটির বেহাল দশা হওয়ায় দিন দিন শালবন বৌদ্ধবিহার, নব শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরে দর্শনার্থীর সংখ্যা কমছে। ময়নামতি জাদুঘর কাস্টোডিয়ান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান জানান, লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে গত সাত থেকে আট মাসে কুমিল্লার দর্শনীয় স্থান থেকে সরকার প্রায় ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সরজমিনে সড়কের পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কের প্রত্যেকটি অংশে পিচ উঠে মাঝারি ও ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পলিটেকনিক্যাল থেকে ক্যাডেট কলেজ, নব শালবন প্রবেশপথ থেকে জাদুঘর পর্যন্ত প্রায় ৩০টি অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন ছাড়াও একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করা সম্ভব নয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সড়কের বড় বড় গর্ত অতিক্রম করতে গিয়ে উল্টে পড়ছে। গর্তে আটকে গেলে যাত্রীদের পেছনে ধাক্কা দিয়ে বা টেনে ওঠাতে হচ্ছে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাসহ ওই সড়কের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে আছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ সড়ক দিয়ে কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধবিহার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, নব শালবন বিহার, ময়নামতি জাদুঘর, ইটাখোলা মুড়া, রূপবান মুড়া, লতিকোট মুড়া, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, লালমাই পাহাড়, শালবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্র ডাইনোসর পার্কসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটক ও বিনোদনপ্রেমীরা এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হচ্ছে না। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী মিতালী ও মরিয়ম বলেন, সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মনের মধ্যে সব সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা বিরাজ করে। সিএনজি অটোরিকশা যখন গর্তে ঢুকে পড়ে তখন মনে হয় গাড়িটি উল্টে যাবে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ সীমা অতিক্রম করেছে। আমরা চাই খুব দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হোক। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, কুমিল্লা শালবন বৌদ্ধবিহার, নব শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরসহ দর্শনীয় স্থানগুলোর পর্যটক কমছে একমাত্র প্রবেশ পথের সড়কটির কারণে। খানাখন্দ ও গর্তে ভরা সড়ক দিয়ে দর্শনার্থীরা আসছেন না। চলতি অর্থবছরে শালবন বৌদ্ধবিহার ও ময়নামতি জাদুঘরের দেড় কোটি টাকা রাজস্ব অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু সড়কটি সংস্কার না করায় পর্যটক ও বিনোদনপ্রেমীদের সংখ্যা কমেছে। যার ফলে লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। বর্তমানেও সড়কের যে বেহাল দশা ঈদুল ফিতরকে ঘিরে শালবন বৌদ্ধবিহার ও জাদুঘরে পর্যটক ও দর্শনার্থী নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, এ সড়কটি সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসক, সিটি কর্পোরেশন ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম বড়–য়া বলেন, সংস্কারের জন্য ইট, পাথর ও বালু মিশ্রণ করে সড়কে ফেলা হয়েছে। তারপর হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় ফণী ও বৃষ্টি শুরু হয়। ভারি যানবাহন চলাচল করায় খানাখন্দ ও গর্ত তৈরি হয়। তারপরও খুব দ্রুত যেন সড়কটি সংস্কার করা হয় সে ব্যবস্থা আমরা করব।