চাটমোহরে ঈদে দেখা নেই ‘মৌসুমী’ নেতাদের

হতাশ নেতাকর্মীরা

প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

চাটমোহরে বিগত বছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঈদের সময় মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের দেখা মিললেও এবার দেখা নেই তাদের। প্রতিবছর উপজেলাজুড়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানানো বড় বড় ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যেত। নেতাকর্মীদের পদচারণায় সরগরম থাকতো নেতাদের ঘরবাড়ি। দুই ঈদে নেতাকর্মীরা উপহার পেতেন পাঞ্জাবি, ঈদ সেলামিসহ নানা উপঢৌকন। এবারের ঈদে তাদের দেখা না মেলায় হতাশ হয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। ঈদের আনন্দ ম্লান হতে বসেছে তাদের। তাই অনেক নেতাকর্মী এসব মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ‘মৌসুমী’ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

জানা গেছে, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পাবনা-৩ আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রায় দেড় ডজন মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠ দাপিয়ে বেড়ান। টানা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অসহায় দুস্থদের সহযোগিতা করেন। দুই ঈদে নেতাকর্মীরা উপহার দিতেন পাঞ্জাবি, ঈদ সেলামিসহ নানা উপঢৌকন। কিন্তু সেইসব মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কপাল পোড়ে আওয়ামী লীগ থেকে পাবনা-৩ আসনে নৌকা প্রতীকে বর্তমান সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন এবং বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সাবেক এমপি আনোয়ারুল ইসলামের মনোনয়ন পাওয়ার পর। নির্বাচনে এই আসনে আবারও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মকবুল হোসেন বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। এরপরেই দুই দলের প্রায় দেড় ডজন মনোনয়নপ্রত্যাশী গা-ঢাকা দেন। নির্বাচনী এলাকায় তারা আসা বন্ধ করে দেন। এদিকে ঈদ চলে আসায় তাদের দেখা না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। খোঁজ খবর নিচ্ছেন আদৌও তারা ঈদের সময় ঢাকা থেকে চাটমোহরে-ভাঙ্গুড়া বা ফরিদপুরে আসবেন কিনা? তাদের বাড়ির সামনে গিয়ে অনেক নেতাকর্মী ভিড় জমাচ্ছেন। দুই দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দেখা না পেয়ে তারা এদের মৌসুমী নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে এই বিষয় নিয়ে দুই দলেরই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা যারা ছিলেন তারা কথা বলতে রাজি হননি। জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এইসব ‘মৌসুমী নেতারা’ই ‘মৌসুমী কর্মী’ তৈরি করেছেন।