গ্রীষ্মের পরিযায়ী ‘চাতক পাখি’

  তোজাম্মেল আযম, মেহেরপুর ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গোপসাগর হতে ধেয়ে আসা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি আর্দ্র বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মের দাবদাহের অবসান ঘটে প্রাণীকুলের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসে। এই মৌসুমি বাতাসের আগে আগে উড়ে এসে বৃষ্টির পূর্বাভাসের বার্তাবাহকের কাজটি করে থাকে ‘চাতক’ বা ‘পাপিয়া’ নামের পাখিটি। অনবদ্য এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই বাংলার সাহিত্য, গান আর বিশ্বাসের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা এই পাখিটিকে প্রকৃতির আবহাওয়াবিদ বললেও ভুল হবে না। চাতক বা পাপিয়া আমাদের দেশের গ্রীষ্মকালীন পরিযায়ী পাখি। আবহমান কাল ধরেই লক্ষ্য করা গেছে, দক্ষিণ ভারতের ট্রপিক্যাল অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে উড়ে আসার কয়েকদিন পরই মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কবি-সাহিত্যিকদের বর্ণনায় ও রূপকার্থে যেন, এরাই বর্ষাকে পিছু পিছু ডেকে নিয়ে আসে।

চাতক পাখি নিয়ে চমৎকার একটি মিথও আছে। সেটি হচ্ছে, ‘মুমূর্ষু মা কিশোর ছেলের কাছে জলপান করতে চাইলেন। ছেলে মায়ের আকুতি ভুলে খেলায় মেতে রইল। ইতিমধ্যে মা পরপাড়ে চলে গেছেন। ছেলে পড়েছে অনুশোচনায়। জল জল করে চেঁচিয়ে পাড়াময় ঘুরতে লাগল। এমনকি মাকে জল পৌঁছে দিতে ওপারে যেতে চাইল। অনেক দূরের পথ পাড়ি দিতে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করল পাখি বানিয়ে দিতে। সৃষ্টিকর্তা ওর আবেদনটা মঞ্জুর করলেন। হয়ে গেল সে পাখি। লোকের বিশ্বাস, ওই কিশোর আজও উড়ে উড়ে স্রষ্টার কাছে জল প্রার্থনা করছে।

এদের বাংলা নাম : ‘চাতক পাখি,। ইংরেজি নাম : ‘পায়েড কুক্কু’ (Pied cucko)। বৈজ্ঞানিক নাম: ‘ক্লামেটর জাকোবিনাস’ (Clamator

jacobinus)। স্থানীয় পাখি সংরক্ষণবিষয়ক ‘কিচির-মিচির বার্ড ক্লাব’ সেক্রেটারি সদানন্দ মণ্ডল জানান ‘কুকুলিদি’ গোত্রের এই পাপিয়া পাখি লম্বায় ৩৩-৩৫ সেন্টিমিটার। বর্ণ সাদা-কালো। ঝুঁটি, ঘাড়, পিঠ ও ডানা কালো। ডানার পাশটায় সামান্য সাদা ছোপ। গলা, বুক, পেট, লেজের নিচটা কালো। লেজের প্রান্ত সাদাটে। চক্ষু, পা কালো। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। চেহারায় রাগী ভাব। তবে অত হিংস্র নয়। গ্রামাঞ্চলের মানুষ এদেরকে বড় বুলবুল পাখি বলে ভুল করে। এরা গাছের উঁচু ডালে অবস্থান করে। মাঝেমধ্যে মাটিতে নেমে আসে। মাটিতে হাঁটে লাফিয়ে লাফিয়ে। সমানতালে পা চালিয়ে হাঁটতে পারে না। মেহেরপুরের হরিরামপুর বিলপাড়ের বনে শুক্রবার পাখিটির দেখা মেলে।

চাতক পাখির প্রধান খাবার ঘাসফড়িং, শুয়োপোকা, পিঁপড়া, লতাগুল্মের কচিপাতা। প্রজনন সময় জুন থেকে আগস্ট। কোকিলের মতো পরের বাসায় ডিম পাড়ে। নিজেরা বাসা বাঁধতে জানে না। ডিমের সংখ্যা ১-২টি। দেখা গিয়েছে, ডিম পাড়ার আগে পুরুষ পাখিটি সুরেলা ডাক দিয়ে বাসার মালিকের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেয়। স্ত্রী পাখিটি সেই ফাঁকে ডিম পেড়ে আসে। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৮-২০ দিন।

‘কিচির-মিচির বার্ড ক্লাব’-এর সভাপতি ফারিহা ইকবাল বলেন, মেহেরপুরসহ কমবেশি সারা দেশেই বিশেষত ঘাসবন সংলগ্ন অঞ্চলে দেখা মেলে এদের। মোট সংখ্যা স্থিতিশীল থাকায় পাখিটি বিপদাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত নয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×