গডফাদাররা বহাল তবিয়তে

উখিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে গতি নেই

  শফিক আজাদ, উখিয়া ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সীমান্ত উপজেলা কক্সবাজারের টেকনাফে একের পর এক শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও তার বিন্দুমাত্র প্রভাব নেই আরেক সীমান্তবর্তী উপজেলা উখিয়ায়। অথচ টেকনাফের পাশাপাশি উখিয়াতেও ইয়াবা ও মাদক ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো কমতি নেই। টেকনাফের তুলনায় ইয়াবা পাচারকারীর সংখ্যা উখিয়ায় কিছুটা কম হলেও উখিয়ায় শীর্ষ ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিল টেকনাফের সমসংখ্যক। কিন্তু সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর টেকনাফে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রাত-দিন দায়িত্ব পালন করে গেলেও উখিয়ায় এর কোনো গতি নেই। যার ফলে ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে ইয়াবা ও মাদক পাচার অব্যাহত রেখেছে। শীর্ষ গডফাদাররা অধরা থেকে যাওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মাদক ও ইয়াবাবিরোধী লোকজন। সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় জেলার শীর্ষ ইয়াবা ডন হাজী সাইফুল করিমসহ দু’জন। এ পর্যন্ত টেকনাফের অর্ধশতাধিক ছোট-বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও পার্শ্ববর্তী উপজেলা হিসেবে উখিয়ায় এর কোনো প্রভাব নেই। উখিয়ায় মাত্র দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও অধরা রয়েছে অন্তত শতাধিক ইয়াবা কারবারি। তারা দিনের বেলায় আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে রাতের বেলায় দেদার চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ও মাদক ব্যবসা। উখিয়া বাঁচাও আন্দোলনের নেতাদের দাবি এ উপজেলায় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে; যারা ইয়াবা ও মাদক সেবন, বাজারজাতকরণ, পাচার ইত্যাদির সঙ্গে জড়িত। সূত্রমতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ৩৫ জন ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে কবির আহমদ, বুজুরুজ মিয়া, রোহিঙ্গা জিয়াবুল হককে আটক করে জেলহাজতে পাঠালেও অধরা রয়েছে অনেকে। মাদকবিরোধী অভিযানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে চিহ্নিত ইয়াবা পাচারকারীদের আটক বা ইয়াবা উদ্ধার করতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টিকে সচেতন মহল ভিন্ন চোখে দেখছে। তারা বলছে, মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গাড়ি, বাড়ি, সহায়সম্পত্তি বহাল তবিয়তে এবং এসব মাদক ব্যবসায়ীও নিজ নিজ অবস্থানে নিরাপদে অবস্থান করছে। তাদের দাবি হয়তো এসব ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হোক, না হয় অস্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হোক। যাতে ইয়াবা পাচার বন্ধ হয়ে যায়। ‘পরিকল্পিত উখিয়া চাই’র আহ্বায়ক সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু লোকের সঙ্গে ইয়াবা সিন্ডিকেটের আঁতাত ও সম্পৃক্ত থাকার কারণে মাদকবিরোধী অভিযানে গত এক সপ্তাহে তেমন কোনো ইয়াবা ব্যবসায়ী ধরা বা ইয়াবা উদ্ধার হয়নি। তিনি বলেন, এসব ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা না হলে হাজারও মাদকবিরোধী অভিযানে সফলতা আসবে না। কারণ এসব ইয়াবা ব্যবসায়ীর রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ও তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানের রাঘববোয়াল ইয়াবা সিন্ডিকেট। এ প্রসঙ্গে উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের জানান, উখিয়ায় যেসব ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে তাদের ব্যাপারে পুলিশ খবরাখবর রাখছে। সময়মতো আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×