শেষ মুহূর্তে কেনাকাটার ধুম

  রাঙ্গামাটি, ফরিদগঞ্জ ও হোমনা প্রতিনিধি ০৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙ্গামাটিতে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদবাজার। শহরের প্রত্যেক বাজারে কেনাকাটা হুলস্থূল। ভিড় জমে বিলাসবহুল বিপণিবিতানগুলোতে। সোমবার শেষ কেনাকাটায় হুমড়ি খেয়ে পড়েন ক্রেতারা। বিক্রি হয়েছে প্রচুর। তবে জিনিসের অতিরিক্ত দামে কেনাকাটা নিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতা সাধারণের। অনেকে বলছেন, কাপড়ের দাম অতিরিক্ত হওয়ায় পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। শহরের বনরূপার বিএম মার্কেটসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দাম যাচাই করে দেখা যায়, শিশুদের ১২০০ টাকার জামা বিক্রি হচ্ছে ২২০০-২৩০০ টাকায়। তবু সন্তানদের মন রক্ষায় বাধ্য হয়ে চড়া দামে কাপড় কিনতে হচ্ছে বলে জানান অনেকে। তারা বলেন, বাসা থেকে যে হিসাবের টাকা নিয়ে কেনাকাটার জন্য বের হয়েছেন, সেই টাকায় অর্ধেক জিনিস কেনা যাচ্ছে না। কারণ দোকানে কাপড়ের দাম দ্বিগুণের বেশি।

এদিকে শপিং মলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় জমছে। শহরের বনরূপার বিএম শপিংমল, কাটাপাহাড় লেন, আইসিআরসি মার্কেট, রিজার্ভ বাজার, তবলছড়িসহ মার্কেটগুলোতে দেখা গেছে কেনাকাটায় ভিড়। কাপড়, কসমেটিকস ও জুয়েলারি দোকানগুলোতেও কেনাকাটা ছিল হুলস্থূল। শহরের বনরূপার আল আমিন ডিপার্টমেন্টের মালিক মোকারম হোসেনসহ বিএম শপিংমলের রাজু গার্মেন্টস, কাটাপাহাড় লেনের মালেক শাহ ক্লথ স্টোর, শাহ আমান স্টেশনারি ডিপার্টমেন্টের দোকানিরা জানান, শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা ভালো জমেছে। পণ্যের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

বৃহত্তর বনরূপা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আবু সৈয়দ বলেন, ক্রেতাদের সম্মান রক্ষায় ও নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। দোকানদার কেউ অতিরিক্ত

মুনাফার জন্য ক্রেতাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত জনসাধারণ। বিকিকিনিতে অস্থির বিপণিবিতানের লোকজনও। গত বছরগুলোতে ঈদবাজার ভরা বর্ষায় থাকায় ব্যবসায়ীরা আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেননি বলে তারা জানান। এবার সে ধরনের শঙ্কা না থাকায় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। বিপণিবিতাণে এখন উপচে পড়া ভিড় ।

ফরিদগঞ্জে বরাবরের মতো এবারও মহিলা ক্রেতার সংখ্যা বেশি। যে কজন পুরুষ ক্রেতা রয়েছে তাদের সঙ্গেও পরিবারের নারী সদস্যরা রয়েছেন। প্রবাসী এলাকা হিসেবে খ্যাত ফরিদগঞ্জের মার্কেটগুলো প্রায় তিন দশক ধরে নারীদের দখলে। রমজানের শুরুতে দোকানিরা গল্প করে সময় কাটালেও এখন দম নেয়ার ফুসরত নেই। সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একটানা দোকানদারি করতে হচ্ছে। ফাতেমা মার্কেট, ভাণ্ডারী মহল, জয়া প্লাজা, কলাবাগান, সিটি শপিং সেন্টার, পাটওয়ারী মার্কেট, সুফিয়া কমপ্লেক্স, কাকলী, সবুজ মার্কেট ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে রাউন্ড ফ্রক বিক্রি হচ্ছে বেশি। এছাড়া লেহেঙ্গা ও থ্রি-পিসও বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে জর্জেট, নেট, লিলেন, সুতিসহ নানা ধরনের কাপড়ের ড্রেস বিক্রি হচ্ছে। তবে মানভেদে ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাখি, কিরণমালা, রাজকুমারী, ইচ্ছেনদী, মোদি, ছুঁয়ে দিলে মন, জলকন্যা, হুররাম সুলতান, দেবসেনা, কুটুমবাড়ি, ডুব এবং পটল কুমার নামের পোশাকের প্রভাব এবার নেই।

এছাড়া দেশি গতানুগতিক থ্রি-পিসেরও কদর রয়েছে। দেশি থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩,৫০০ টাকার মধ্যে। বিবাহিত নারীরা কিনছে তাদের পছন্দের শাড়ি। ছেলেরা কিনছে জিন্স এবং প্যান্ট। জিন্স প্যান্ট ৭০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। নরমাল প্যান্টের দামও প্রায় একই রকম। এ ঈদেও ছেলেদের পছন্দ পাঞ্জাবি। ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকার মধ্যে পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া শার্ট ও টি-শার্টও কিনছে তরুণরা।

অপরদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুমিল্লার হোমনায় জমে উঠেছে শেষ দিনের ঈদের কেনাকাটা। এবার ঈদে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে মহিলা ক্রেতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরেজমিন দেখা গেছে, হোমনা সদরের আল রশিদ প্লাজা, শিলামনি মার্কেট, খোরশেদ আলম মার্কেট, আল করিম সুপার মার্কেট, ফয়সাল প্লাজা, ববেশ সুপার মার্কেট ও গালর্সস্কুল মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটের কাপড় ও জুতার দোকানে উপচে পড়া ভিড়। মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সবাই এখন নতুন নতুন পোশাকসহ নানা সাজ-গোজের কেনাকাটার জন্য ছুটছেন বিপণিবিতানগুলোতে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় পোশাক ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের নাম অনুসারে বা নায়িকাদের নামানুসারে। আল রশিদ প্লাজার ‘তিশামনি ফ্যাশন’, ‘মরিয়ম ফ্যাশন’ ও ‘মা বস্ত্রবিতান’ এবং খোরশেদ আলম মার্কেটের অরেঞ্জ ফ্যাশনে গিয়ে দেখা গেছে ঈদ উপলক্ষে পুরুষদের শার্ট, প্যান্ট, জিন্স, গ্যাবার্ডিন, খদ্দর, পাঞ্জাবি, লুঙ্গি এবং মেয়েদের জন্য রয়েছে মসলিন কাপড়ের ফ্লোরটাস, গোলজামা, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, থ্রি-পিস, ফোর-পিস বিক্রয় চলছে। তবে সুতি কাপড়ের গোলজামা ও লোন থ্রি-পিসের চাহিদা বেশি।

আল করিম সুপার মার্কেটের মেসার্স মা ক্লথ স্টোরের মালিক আক্তার হোসেন জানান, দেশি বাহারি রঙের পোশাক, মহিলাদের সুতি, জর্জেট, জামদানি, দেশি সুতি কাপড়ের গোলজামা, দেশি টিস্যু গোল জামা প্রতি আর্কষণ বেশি। এসব পাওয়া যাচ্ছে ৮শ’ থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×