এলেঙ্গা-ভূঞাপুর সড়ক

নিম্নমানের ডাইভারশনে চরম ভোগান্তি

  ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ০৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা-ভূঞাপুর সড়কে চলছে ব্রিজ নির্মাণ ও রাস্তা উন্নয়নের কাজ। ফলে এ সড়কে যানবাহন চলাচলের জন্য বিকল্প সড়ক নির্মাণ করেছেন ঠিকাদাররা। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে বিকল্প সড়ক তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। সড়কে একদিকে রোদে প্রচণ্ড ধুলা অন্যদিকে বৃষ্টিতে থাকে কাদা। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সড়কে যাতায়াতকারীরা। আসন্ন ঈদুল ফিতরে গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কে তীব্র যানজটের আশঙ্কা করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া রাস্তার কাজ নিয়েও উঠেছে নানা অভিযোগ।

টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা-ভূঞাপুর সড়ক দিয়ে কালিহাতী, ঘাটাইল ও ভূঞাপুর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাফেরা করেন। তারাকান্দি সার কারখানার মালবাহী যান চলাচলের প্রধান সড়ক এটি। উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের বিকল্প সড়ক এবং বঙ্গবন্ধু সেনানিবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ সড়কে চলাচল করেন।

টাঙ্গাইলের সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইল ভূঞাপুর সড়কের এলেঙ্গা থেকে চরগাবসারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার রাস্তা ২৪ ফিট চওড়াকরণ ও উন্নয়নের জন্য ৪৭ কোটি টাকার কাজ করছে ২টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর ১০টি ব্রিজ ও ১টি কালভার্ট নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ৫৩ কোটি টাকা। ৩টি প্যাকেজে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এ কাজ করছে। ১০০ কোটি টাকার এ প্রকল্প শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর, শেষ হবে ২০২০ সালের ২০ জুন।

সরেজমিন দেখা যায় পুরাতন ব্রিজগুলো ভেঙে নতুন নির্মাণ ব্রিজের কাজ চলছে জোরেশোরেই। প্রতিটি ব্রিজের পাশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে যানবাহন চলাচলের বিকল্প সড়ক (ডাইভারশন)। এ বিকল্প সড়ক নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। ভাঙা ব্রিজের আবর্জনা দিয়েই তৈরি হয়েছে অধিকাংশ ডাইভারশন। সড়কের শ্যামপুর, ফুলতলা, নারান্দিয়া, কাগমারীপাড়া ও শিয়ালকোল বিকল্প সড়ক একেবারে চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। সড়কের মাথায় নেই মাটি, একটু পরপরই গর্ত। আবার সড়কের উপরেই রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। রোদ থাকলে বিকল্প সড়ক ধুলায় অন্ধকার হয়। ছিটানো হয় না নিয়মিত পানি। আর বৃষ্টিতে গর্তে জমে পানি। ফলে ছোট-বড় যানবাহনগুলো চরম ঝুঁকি নিয়েই ডাইভারশন পারাপার হচ্ছে। ঝাঁকুনি আর ধুলায় পথচারী ও যাতায়াতকারীদের ভোগান্তির শেষ নেই। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক ও অসুস্থদের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়।

ট্রাকচালক আকবর হোসেন বলেন, মালভর্তি গাড়ি নিয়ে অনেক ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করি। মনে হয় এখনই বুঝি উল্টে গেল। সিএনজিচালিত একাধিক অটোরিকশাচালক বলেন, রোগী নিয়ে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে গেছে অধিকাংশ বিকল্প সড়ক। এছাড়া আমাদের গাড়ির ইঞ্জিন পাটর্স নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

রোকেয়া সুলতানা নামের এক যাত্রী বলেন, একদিকে রাস্তা তো যাওয়ার একেবারে অযোগ্য। আবার ঈদ শুরু হওয়ার আগেই ভাঙাচোরা রাস্তার অজুহাত দেখিয়ে ভাড়া বেশি নিচ্ছেন চালকরা। যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রানা বিল্ডার্সের সোহেল রানা জনি বলেন, ডাইভারশন মেরামতের কাজ অতি দ্রুত করা হবে। এই প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক সড়ক ও জনপথ বিভাগ টাঙ্গাইলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহেল মাহমুদ বলেন, বিকল্প সড়কগুলো নির্মাণ ও চলাচলের উপযোগী রাখার দায়িত্ব ঠিকাদারের। কয়েকটি ডাইভারশনের অবস্থা একেবারের খারাপ। ঈদের আগেই এগুলো মেরামত করা হবে।

টাঙ্গাইল-২ আসনের এমপি তানভীর হাসান ছোটমনির অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ২০ কিলোমিটার রাস্তার কাজে অনিয়ম চলছে। একেক স্থানে একেকভাবে কাজ করা হচ্ছে। আমি নির্বাহী প্রকৌশলীকে বলেছি। আর ডাইভারশনগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ঈদে মানুষের ভোগান্তি না হয় সেটা ভেবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×