জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-সিলেট সড়ক যেন পুকুর

  সানোয়ার হাসান সুনু, জগন্নাথপুর ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-সিলেট সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কে বড় বড় গর্তের ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের কারণে ডজনখানেক যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বিপুলসংখ্যক লোক আহত হয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। মঙ্গলবার বিকালে এ সড়কের শাসনহবী এলাকায় ভাঙাচোরা বড় গর্তে পড়ে একটি মিনিবাস উল্টে খাদে পড়ে ১৫ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। তাছাড়া গর্ভবতী মহিলাদের নিয়েও মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলার চিলউড়া গ্রামের এক গর্ভবতী মহিলাকে সিলেট নিয়ে যাওয়ার পথে ইসহাকপুর এলাকায় বড় গর্তের মধ্যে সিএনজি পড়লে গাড়ির মধ্যেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। বুধবার সিএনজিচালক রাজু মিয়া জানান, এ ঘটনায় আমরা বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ি। এ ধরনের বিপজ্জনক সড়ক বাংলাদেশের আর কোথায়ও আছে কি না জানি না। দীর্ঘ ২ বছর ধরে এ অবস্থা চললেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। নেতারা তো পকেট নিয়ে ব্যস্ত। এ দিকে কোনো খেয়াল নেই।

বিভাগীয় শহর সিলেটের সঙ্গে যোগযোগ রক্ষাকারী একমাত্র সড়ক জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-সিলেট সড়কটি বর্তমানে যানচলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ায় জনসাধারণ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। গত বছর ইটের সুরকি দিয়ে নিম্নমানের কাজ করা সড়কটির পিচ ঢালাই উঠে বর্তমানে বেহাল। জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়কটি বর্তমানে যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রয়োজনের তাগিদে সিলেট শহরে যাতায়াত করছেন। জগন্নাথপুরের হবিবপুর গ্রামের অধিবাসী সিলেট শহরের তালতলার হোটেল ইস্টএন্ডের স্বত্বাধিকারী আহমদ হোসেন বলেন, ব্যবসায়িক কারণে আমাকে প্রতিদিনই সিলেট শহরে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সড়কের বেহালদশার কারণে চলাচল করতে ভয় লাগে। মানুষ যদি সড়ক দিয়ে চলাচল করতে না পারে তাহলে শুধু ডিজিটাল ডিজিটাল বলে চিৎকার দিয়ে লাভ কী?

এদিকে ২০১৭ সালের জুনে জগন্নাথপুর থেকে কেউনবাড়ী পর্যন্ত পৌনে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কে ২ নম্বর ইটের সুরকি ও নিম্নমানের বিটুমিন ও অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সংস্কার কাজ করা হলে ৪ মাসের মাথায় সড়কটি ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। তখন থেকে সড়কটির বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। এ নিয়ে ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর দৈনিক যুগান্তরে সচিত্র রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ঠিকাদার নুরু কন্সট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আওয়ামী লীগ নেতা নাদের আহমদ, তৎকালীন প্রকৌশলী ও পাওয়ার পার্টির কতিপয় নেতাকে ম্যানেজ ও আওয়ামী লীগর সাইনবোর্ড ব্যবহার করে পার পেয়ে যান। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রাস্তাঘাটের উন্নয়নে মোটা অঙ্কের টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও দায়সারা কাজ করেন। অধিকাংশ টাকাই লুটপাট হয়ে যায়। এলাকাবাসী ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ উপজেলার সব জরাজীর্ণ সড়ক পুনঃনির্মাণের জোর দাবি জানান। সেই সঙ্গে সরকারি টাকা যাতে লুটপাট না হয় এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং কাজ যেন প্রাক্কলন অনুযায়ী উন্নতমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সঠিকভাবে করা হয় এবং টেকসই হয় এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ারের সঙ্গে আলাপ হলে তিনি দৈনিক যুগান্তরকে বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির পুনঃনির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর মঙ্গলবার থেকে সড়কটির সার্ভে শুরু করেছি এবং জগন্নাথপুর ও বিশ্বনাথের অংশ মিলিয়ে ৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আশা করছি ২-৩ মাসের মধ্যে সড়কটির পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু করতে পারব। আপাতত সড়কটির বড় বড় গর্ত ভরাটসহ সংস্কার কাজের জন্য ১৩ লক্ষ্য টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×