দখল দাপটে নাব্য হ্রাস লঞ্চ চলাচল বন্ধ

আগৈলঝাড়ার পয়সারহাটের সন্ধ্যা নদী

  এমএম সাইফুল ইসলাম রব, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার এক সময়ের খরস্রোতা পয়সারহাট সন্ধ্যা নদী দখলের দাপটে সৌন্দর্য হারানোর পাশাপাশি হারিয়েছে নাব্যতা। তিন বছর যাবত ঢাকা-পয়সারহাট লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। সন্ধ্যা নদীর পয়সারহাট বন্দর ও পয়সারহাট সেতুর দুই পাশেই প্রভাবশালী অবৈধ দখলদার নির্মাণ করেছেন পাকা স্থাপনাসহ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। নদী দখলমুক্ত করে নদীর স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নদী কমিশন ১ মার্চের মধ্যে নদী দখলদারদের তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশনা দিলেও এখনও সন্ধ্যা নদী দখলের তালিকা সম্পন্ন করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। জানা গেছে, বরিশালের সন্ধ্যা নদীর আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট এলাকায় শত বছর পূর্বে গড়ে উঠে বরিশালের বৃহৎ ব্যবসায়ী বন্দর। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে পয়সারহাট-ঢাকা চারটি বড় লঞ্চ চলাচল করে আসছিল। নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় তিন বছর ধরে ঢাকা-পয়সারহাট লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন পয়সারহাট বন্দরের সহস্রাধিক ব্যবসায়ী। এক সময় নদীটি প্রায় ১২ থেকে ১৪শ’ ফুট প্রশস্ত ছিল। বর্তমানে সন্ধ্যা নদীর পয়সারহাট এলাকার প্রশস্ততা সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। নদীর প্রশস্ততা ২ থেকে আড়াইশ’ ফুট। প্রভাবশালীরা নদী ভরাট করে গড়ে তুলেছে পাকা স্থাপনা। দখলদারদের মধ্যে রয়েছেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার, বাগধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাউস বখতিয়ার, আওয়ামী লীগের আবদুল জব্বার তালুকদার, বাদশা বখতিয়ার। এছাড়াও বাগধা বাজারসহ নদীর বিভিন্ন স্থানে আরও ১০-১২ জন প্রভাবশালী নদী দখল করেছেন বলে এলাকাবাসী জানান। সরেজমিন দেখা গেছে, সন্ধ্যা নদীর পয়সার সেতুর পূর্ব পাশে গোড়ায় আনুমানিক ১৩০ শতাংশ নদীর পাড় বালু দিয়ে ভরাট করে ভোগদখল করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি জেবারুল খান। এছাড়া নদীর পশ্চিমপাড়ে পয়সারহাট বন্দরের লঞ্চ টার্মিনালের পেছনে নদীর মধ্যে বহুতল পাকা খবন নির্মাণ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার। পয়সারহাট বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল খালেক চকিদার বলেন, দখল ও নাব্যতার কারণে নদীটি মরে যাওয়ায় আমরা ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাগধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাউস বাদশা বখতিয়ার, জব্বার তালুকদার, মোনাসেফ হোসেন নদী দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা নদীর জমি দখল করিনি, ক্রয়সূত্রে রেকর্ডীয় জমি ভোগদখল করেছি। জেবারুল খান দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, আমি ১০০ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক। আবুল বাশার ওরফে বাদশা হাওলাদারের কাছে পাকা বহুতল ভবন নির্মাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ভবন নির্মাণের কথা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, নদীর জায়গা নয়, নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মাণ করেছি। আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা পেয়েছি। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা ভূমি অফিসের সমন্বয় দরকার। সংশ্লিষ্ট দফতরের সমন্বয়ে সন্ধ্যা নদী পরিমাপ করে দখলদারদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করে নদী দখলমুক্ত করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×