ধান-চাল ক্রয়ে অনিয়ম

নবীগঞ্জে খাদ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

  মো. সরওয়ার শিকদার, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় সরকার কর্তৃক সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও চাল ক্রয়ে চলছে ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি। উপজেলা খাদ্য অধিদফতর ও কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের কারণেই ঘটছে এ অনিয়ম। দায়ভার এড়িয়ে একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কার কাছে গেলে ন্যায্য অধিকার পাবেন তা তাদের জানা নেই। মাসখানেক ধরে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হলেও ৫৩৮ টনের মধ্যে নেয়া হয়েছে মাত্র ১৭০ টন। টনপ্রতি খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাকে চাহিদামতো টাকা না দেয়ায় এবং নানা অজুহাতের কারণ দেখিয়ে কৃষকের ধান ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর পর নবীগঞ্জের একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে কৃষকদের কাছে থেকে ধান সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। এর পূর্বে প্রকৃত কৃষকদের নাম না রেখে প্রভাবশালী নেতা, ব্যবসায়ী, ইউপি সদস্য ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের জোগসাজশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নবীগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলা ১৩টি ইউনিয়নে একটি করে পৃথক তালিকা করা হয়। এ তালিকায় বেশির ভাগ লোকই কৃষক নন।

জানা গেছে, বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। নেতারা ইউপি সদস্যসহ সঙ্ঘবদ্ধভাবে সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে ওই দামে ধান কিনছেন। সেই ধান সরকারি গুদামে সরবরাহ করে তারা প্রতি মণে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

নবীগঞ্জ খাদ্যগুদাম অফিস সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা মিলে ৫৩৮ টন ধান সংগ্রহের কথা রয়েছে। তবে ভালো মানের ধান হতে হবে। যাচাই-বাছাইয়ে ধানের মান ভালো না হলে কেনা যাবে না। এখন পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭০ টন। তাদের কথা অনুযায়ী, এখনও আরও ৩৬৮ টন ধান সংগ্রহের কাজ বাকি রয়েছে।

শিবলু মিয়া নামে এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ধান সংগ্রহে অনিয়ম-দুর্নীতি কেন? তিনি এক সপ্তাহ ধরে ধান নিয়ে এলেও তার ধান এনে অজুহাতে গ্রহণ করা হচ্ছে না। আবার প্রভাবশালীরা নিয়ে এলে সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে যাচ্ছে। তালিকাভুক্ত কৃষক কামাল মিয়া জানান, খাদ্য কর্মকর্তার কথা অনুযায়ী গত এক সপ্তাহ ধরে আমার ধান খাদ্যগুদামে পড়ে রয়েছে, কিন্তু আমার ধান নেয়া হচ্ছে না। আনছার মিয়া নামে এক কৃষক জানান, কৃষি কর্মকর্তা ও মেম্বারকে টাকা না দেয়ায় আমিসহ ৩ জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে আমরা এখন ধান বিক্রি করতে পারছি না। সরকার কার জন্য ধানের দাম বাড়াইলো।

এ ব্যাপারে জানতে খাদ্যগুদাম ইনচার্জ আহসান হাবিব বলেন, আমাদের কোনো দুর্নীতি হচ্ছে না, আমরা কৃষকের তালিকা মোতাবেক ধান নিচ্ছি, কোনো অনিয়ম হলে কৃষি অফিস করেছে, তাদের তালিকায় যদি কোনো কৃষক বাদ পড়েন আমাদের কিছু করার নেই, আবার কোনো অকৃষক যদি তালিকায় ঢুকে আমাদের কিছু করার নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা কারও কাছ থেকে টাকা নেই নাই। যারা এসব অভিযোগ করেছে সেটা সঠিক নয়। নবীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গৌরি পদ বলেন, নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারাই এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মাকসুদুল আলম বলেন, আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারদের সহযোগিতায় এই কৃষকদের তালিকা তৈরি করেছি। তালিকায় কোনো অনিময়-দুর্নীতি হয়ে থাকলে আমরা খতিয়ে দেখব।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ধান-চাল সংগ্রহ কমিটির আহ্বায়ক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে, কৃষকের তালিকায় যদি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিজের নাম এবং আত্মীয়স্বজনের নাম দেয়া হয় অবশ্যই আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

নবীগঞ্জ ধান-চাল সংগ্রহ কমিটির উপদেষ্টা উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম বলেন, যদি তালিকায় কোনো প্রবাসীর নাম দেয়া হয় এবং জনপ্রতিনিধিদের নাম পাওয়া যায় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×