মীরসরাইয়ে চিংড়ি রেণু আহরণ

ধ্বংস হচ্ছে মাছসহ জলজপ্রাণী

  মাহবুব পলাশ, মীরসরাই ২০ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মীরসরাই উপজেলার উপকূলীয় জোন এলাকার সমুদ্র উপকূলীয় ফেনী নদীর বিভিন্ন স্থানে ও সাগরের মোহনায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে অবাধে চলছে গলদা-বাগদা চিংড়ির রেণু আহরণ। এ রেণু আহরণ করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ধ্বংস হচ্ছে হাজারো প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী। নদীর বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা যায়, নিষিদ্ধ মশারি ও ঠেলা জাল দিয়ে জেলেরা লাখ লাখ চিংড়ি রেণু আহরণ করে বিক্রি করছে স্থানীয় বেপারীদের কাছে। বেপারীরা সেগুলো দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে খুলনা, বাগেরহাট ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন চিংড়ি ঘের মালিকদের কাছে। ফেনী নদীর মুহুরী রেগুলেটরের দু’পাশে, চর খোন্দকার, ইছাখালী ও উপকূল, সোনাগাজীর জেলেপাড়া, সুজাপুর, থাক খোয়াজ লামছি, ছোট সুইচ গেট, ভাঙ্গাবেড়ী, চর খোয়াজের লামছিসহ বেশ কিছু স্থানে গিয়ে চিংড়ির আহরণ ও মৎস্য প্রজাতির এ ধ্বংসলীলা দেখা যায় প্রতি বছর এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত। অথচ প্রজনন মৌসুম থাকায় এ সময়টাতে নদীতে মাছ ধরার প্রতি রয়েছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। ফেনী নদীর মুহুরী সেচ প্রকল্প এলাকা থেকে শুরু করে মীরসরাই এর ইছাখালী, মঘাদিয়া খাল পর্যন্ত এবং ছোট ফেনী নদীর কাজীর হাট স্লুইস গেট থেকে দক্ষিণে সন্দীপ চ্যানেল পর্যন্ত বিশাল উপকূলীয় এলাকায় প্রতিদিনই লাখ লাখ চিংড়ি পোনা আহরণ করা হচ্ছে। এতে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও সোনাগাজী উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ শুধু নদীতে চিংড়ি পোনা আহরণ করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। এসব স্থান ঘুরে দেখা যায়, জেলে, শিশু ও বৃদ্ধ সবাই মশারি এবং ঠেলা জাল নিয়ে চিংড়ি রেণু আহরণ করছে। জেলেরা শুধু বাগদা-গলদা চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করে অন্যান্য মাছের রেণু ও জলজ প্রাণী ফেলে দিচ্ছে। মুহুরী প্রজেক্টের ফেনী রেগুলেটর এলাকায় গিয়ে দেখা হয় এমন কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ীর সঙ্গে। জাহিদুল ইসলাম নামে এক মাছ ব্যবসায়ী এসেছেন খুলনার পাইকগাছা এলাকা থেকে। তিনি জানান, চিংড়ির রেণু পোনা আহরণ করতে দু’মাসের জন্য এ এলাকায় এসেছেন। স্থানীয় মহাজনের মাধ্যমে তিনি নদী থেকে এ পোনা আহরণ করে প্রতি পিস ৫০ পয়সা ধরে বিক্রি করেন। আব্বাস হোসেন নামে আরেকজন বলেন, চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করার সময় কোরাল, কাঁকড়া, বাইলা, মলা, ডেলা, চেউয়া, তফসে, বাটা, চাপিলা, কুচিয়া, টেংরা, পোয়া, লইট্টা, ভেঁটকি, ইলিশ, কাচকিসহ আরও অনেক প্রজাতির পোনা আসে। তারা শুধু চিংড়ি পোনা আহরণ করে বাকিগুলো ফেলে দেন। প্রতিটি চিংড়ির ভালো দামে বিক্রি করতে পারেন। অন্য মাছের পোনা নষ্ট হলে তাতে তাদের কোনো সমস্যা নেই। এ বিষয়ে মৎস্য বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মো. সাইফুদ্দিন শাহ বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে চিংড়ির রেণু আহরণ করা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। তারপরও সাগর মোহনা অঞ্চলের গরিব মাছ ব্যবসায়ীদের ঠেকানো যাচ্ছে না। তারা অবৈধভাবেই নদী ও খাল থেকে গলদা এবং বাগদার রেণু পোনা আহরণ করছেন। এ প্রবণতা আরও বেড়ে গেছে বিগত কয়েক বছরে হ্যাচারিগুলোতে কৃত্রিমভাবে পোনা উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে। এখন ঘের মালিকরা সবাই গলদা চিংড়ির জন্য প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদের উপরই পুরোপুরি নির্ভলশীল হয়ে আছে। আর বাগদার রেণুতো ধরেই। ফলে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ দিনদিন মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, একটি গলদা বা বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা আহরণ করতে গিয়ে অন্য ৪৬৩ প্রজাতির মাছের রেণু পোনা ধ্বংস হয়। আর সঙ্গে নদীর পানিতে বাস করা ক্ষুদ্র জীব কণা ধরা হয় তাহলে তার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৬৩টি। এটা সার্বিকভাবে বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের জন্য বিশাল ক্ষতির কারণ। এটা কঠিনভাবে রোধ না করতে পারলে বাংলাদেশের নদীগুলো ধীরে ধীরে মাছ শূন্য হয়ে যাবে। আর রোধ করা গেলে বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদ বাড়বে দিনকে দিন। মীরসরাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা শিগগিরই এই বিষয়ে মুহুরী নদীর মোহনায় অভিযান পরিচালনা করব।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×