গৌরীপুরে ফায়ার সার্ভিস

ভবন নির্মাণের নামে চলছে গাছ কাটা

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভবন নির্মাণের অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে চলছে গাছ কাটার প্রতিযোগিতা। চলছে গাছ বিক্রি করে থানায় চুরির সাধারণ ডায়েরি করে সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির পাঁয়তারা। তবে এসব বিষয়ে দায় নিচ্ছে না ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। সরকারি ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগের কোনো কর্মকর্তারও দেখা মিলেনি। সোমবার গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিস ভবন নির্মাণ স্থানে দেখা যায় অনুমোদন ছাড়াই চলছে একের পর এক গাছ কাটা। গাছ কাটছেন বোকাইনগর ইউনিয়নের খালান্দর গ্রামের মো. জুয়েল মিয়া ও রামগোপালপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের ইউসব আলী। ইউসব আলী জানান, ঠিকাদারের লোক বাপ্পী দে গাছ কাটতে এনেছেন। প্রকল্প এলাকায় থাকা বাপ্পী দে’র ছোট ভাইও গাছ কাটার অনুমতি, টেন্ডারের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমডি ফরিদ উদ্দিন কন্সট্রাকশনের জিএম বাপ্পী দে মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, গাছ কাটার লিখিত কোনো অনুমতি নেই। ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালকের মৌখিক নির্দেশেই ইতিমধ্যে ৬টি গাছ কাটা হয়েছে। আজ ৩টি কাটা হচ্ছে। পূর্বের ৬টি কাটা গাছই চুরি হয়ে গেছে। এ ঘটনার গৌরীপুর থানার সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এ দিকে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দিমনি শর্মা জানান, ভবন তৈরি করেছে গণপূর্ত বিভাগ। গাছ কাটা, না কাটা সেটা গণপূর্ত বিভাগের। ভবন নির্মাণের আগে আমরা কিছুই জানি না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা করিম জানান, সরকারি গাছ কাটার আগে যথাযথ নিয়ম মানা উচিত ছিল।

অপরদিকে থানায় ডায়েরিকৃত চুরি যাওয়া গাছের কিছু অংশের সন্ধান মিলেছে পার্শ্ববর্তী করাতকলে। করাতকলের মালিক বোকাইনগর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের ইজ্জত আলী জানান, ঠিকাদারের লোকজন গাছ কেটে এখানে রেখেছে। আমি গাছ ক্রয় করিনি। সরকারি গাছ কেনার প্রশ্নই আসে না। আরও কিছু গাছের সন্ধান মিলেছে পরিত্যক্ত জেলখানায়। সেগুলোও ঠিকাদারের লোকজন রক্ষিত রেখেছে বলে জানান সাইফুল ইসলাম। ভবন নির্মাণকাজ চলমান ও গাছ কাটার সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি থাকা বাধ্যতামূলক। তবে গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণকাজ চললেও সেখানে গণপূর্ত বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে খোঁজে পাওয়া যায়নি।