বেতাগীতে মায়ের খোঁজ নেয় না কোটিপতি ছেলে

  শফিকুল ইসলাম ইরান, বেতাগী (বরগুনা) ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাকিমুন বেগম। বয়সের ভারে প্রায় নুয়ে পড়েছেন। লাঠিতে ভর দিয়ে কোনোরকমে হাঁটতে পারেন। অন্যের সহযোগিতা ছাড়া প্রায় নিরুপায় তার পথচলা। বয়স সত্তর (৭০) বছরের কাছাকাছি। তবে রোগ আর শোকে আক্রান্ত এই বৃদ্ধার বয়স যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অসুস্থ হলে সামান্য ওষুধ কেনার টাকা নেই তার, তবে ছেলে আনন্দ উল্লাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, নির্মাণকাজ করছেন প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনতলা বিশিষ্ট অট্টালিকার। বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আবদুল হামিদ হাওলাদারের সন্তান থাকা সত্ত্বেও এমন মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্ত্রী ৭০ বছরের বৃদ্ধা হাকিমুন বেগম। আর্থিকভাবে সচ্ছল এক ছেলে ও স্বামীর রেখে যাওয়া অনেক সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও স্বামীহারা এই বৃদ্ধার মাথাগোঁজার জায়গা নেই বললেই চলে। রাতে ঘুমানোর জন্য অনেক বলার পরে বারান্দায় ঠাঁই হয়েছে তার। নিজ ছেলের অবহেলা আর ছেলের বউয়ের অমানুষিক অত্যাচারের মুখে নিস্তব্ধ এই বৃদ্ধা। তাই তো নিদারুণ কষ্ট আর মানবেতর যন্ত্রণায় বছরের পর বছর মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আবার অনেক সময় বাবার বাড়ি গিয়ে ভাইয়ের ছেলেদের কাছে থাকেন তিনি। অসুস্থ হলে সামান্য ওষুধটুকু কিনে দেন না ছেলে আবদুল মন্নান (রাঙ্গা মিয়া)। মানুষের দুয়ার আর হাসপাতালের বারান্দা তার ঠিকানা। বাড়িতে যেখানে রাতযাপন করেন সেখানে আছে ভাঙা একটি চৌকি, চট আর কিছু পানির বোতল। বিদ্যুৎ থাকা সত্ত্বেও নেই বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা; রাতে অসহ্য গরম আর মশার কামড় এই বৃদ্ধার এখন নিত্যসঙ্গী। কোনোরকমে রাত পার হলেই লাঠিতে ভর করে বারান্দার ছাপরা থেকে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কখনও রাস্তার পাশে নতুবা হাসপাতালে এসে বসে থাকেন। এমন কষ্টের দৃশ্য সন্তানের চোখে না পড়লেও গ্রামের মানুষ ঠিকই উপলব্ধি করতে পারেন। তাই স্থানীয়দের সাহায্য সহযোগিতায় খাবার আর ওষুধ জুটে তার মুখে। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে হাকিমুন বেগম বুকভরা কষ্টগুলো চিৎকার করে বলতে চাইলেও বয়সের ভারে আর অত্যাচারের ভয়ে বলতে পারেন না। কথা বললে শুধু ফ্যাল-ফ্যাল করে চেয়ে থাকেন। সোমবার জলিবাজারে অবস্থিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বসে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কারও কাছে এসব কথা বললেই ছেলে মারে। দুপুরে পচা তরকারি দিয়ে খাবার দেয়। একবেলা খাবার দেয় তাও যদি পচা তরকারি দিয়ে দেয় তবে বাঁচব কী খেয়ে? অসুস্থ হলে কোনো দিন এক পয়সার ওষুধও কিনে দেয় না ছেলে রাঙ্গা মিয়া, বিছানায় পোকা পড়ে গেছে, আবর্জনায় ভরে গেছে ঘর।’ হাকিমুন বেগমের ছেলে রাঙ্গা মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গেলে বাড়ি থেকে সটকে পড়েন তিনি। একাধিকবার মোবাইলে ফোন দিলে কেটে দেন এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ ব্যাপারে বেতাগী উপজেলা চেয়ারম্যান ফোরকান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই বৃদ্ধাকে প্রায়ই ওষুধ কেনার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছি। তবে এর একটা বিহিত হওয়া দরকার; তা না হলে নতুন প্রজন্ম মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×