কুমিল্লায় অপরাধে সক্রিয় দশ কিশোর গ্যাং

আতঙ্কে নগরবাসী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পরিবার

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় কিশোর অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছে ১০ কিশোর গ্যাং। ভারি কোনো অস্ত্র নয় সাধারণ ছুরি ও ছোটখাটো ধারালো অস্ত্র দিয়েই এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা খুনখারাবির মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নগরীতে পাল্লা দিয়ে এসব গ্যাংয়ের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জেলা ও থানা পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি থাকলেও নানা কৌশলে এসব কিশোর অপরাধী নগরীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী মেয়েরা এসব গ্যাংয়ের সদস্যদের কাছে প্রতিনিয়তই নাজেহাল হচ্ছে। এসব কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে নগরীর সর্বত্রই আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে নগরীর স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলো শঙ্কায় রয়েছে। এদিকে এসব গ্যাংয়ের নেপথ্যে ‘বড়ভাই’রূপী গডফাদার থাকায় তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ভয়ংকর এসব গ্যাংয়ের হাতে গত দুই বছরে ছয় শিক্ষার্থীর প্রাণ গেছে। আহত হয়েছে ৫০ জনেরও বেশি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীতে ক্রমেই বাড়ছে কিশোর অপরাধ। স্কুল-কলেজগামী একশ্রেণীর বখাটে শিক্ষার্থী বিভিন্ন নামে সংগঠিত হয়ে খুনখারাবি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ইভটিজিংসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। নগরীতে প্রায় ১০টি কিশোর গ্যাং গ্রুপ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করছে। ব্লাক স্টার, ডার্ক, ঈগল, আরজিএস, র‌্যাক্স, এক্স, এলআরএন, সিএমএইচ, মডার্ন, রকস্টার, ডিস্কো বয়েজ, বস ইত্যাদি নামে পরিচালিত হচ্ছে এসব গ্যাং সিন্ডিকেট। এসব গ্রুপের আবার গ্যাং-লিডারও রয়েছে। তাদের বেশিরভাগ সদস্যই ফেসবুক, ইন্টারনেটে আসক্ত। নেশার মধ্যে গাঁজা, ইয়াবা ও ধূমপানেই বেশি আসক্ত। এসব গ্যাংয়ের মধ্যে ঈগল এবং আরজিএসই সবচেয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। এ দুটি গ্রুপই নিজেদের মধ্যে বেশিরভাগ মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছে। কার চেয়ে কে শক্তিশালী এ দ্বন্দ্বে তারা মুহূর্তেই জড়িয়ে পড়ছে। আর প্রতিযোগিতা চলে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর।

সূত্র জানায়, শুধু ঈগল গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যাই ৯ শতাধিক। নগরীর মোগলটুলি এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ঈগল গ্যাং। কুমিল্লা জিলা স্কুল ও কুমিল্লা হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণীর ছাত্ররাই এ গ্যাংয়ের সদস্য। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, গ্যাংয়ে যোগ না দিলে গ্যাংয়ের সদস্যরা মোবাইল ফোন, টিফিনের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয় ও টিফিন ছিনিয়ে খেয়ে ফেলাসহ শারীরিক নির্যাতন চালায় শিক্ষার্থীদের ওপর। এছাড়া কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা আরজিএস নামে গ্যাং সৃষ্টি করে নগরীর নজরুল এভিনিউ, তালপুকুরপাড় এলাকা, বাগিচাগাঁও, কান্দিরপাড়, ঝাউতলা, ঠাকুরপাড়ায় নিজেদের কর্তৃত্ব তৈরিতে কাজ করছে। কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে রাজগঞ্জ ও উজিরদীঘি এলাকা। গ্যাংগুলোর অনেক সদস্যের স্কুলব্যাগে ধারালো ছুরি থাকে। থাকে গাঁজা ও সিগারেটের প্যাকেটও। চায়ের দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনের সড়ক এমনকি বিভিন্ন শপিংমলের আশপাশে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ঘোরাঘুরি করে। চায়ের দোকানগুলোতে তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আড্ডায় মেতে থাকে। বিশেষ করে টাউন হল মাঠ ও এর আশপাশের বিভিন্ন চা দোকান ও হোটেলে তাদের আড্ডা, মেয়েদের স্কুল ছুটির সময় পথে দাঁড়িয়ে উত্ত্যক্ত করা যেন রুটিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব শিক্ষার্থী পরিবারের প্রশ্রয়ে দিন দিন উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী হচ্ছে। কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুল, জিলা স্কুল, কালেক্টরেট স্কুল ও হাই স্কুল, অ্যাথনিকাসহ নগরীর আরও কিছু স্কুলের বেশিরভাগ ছাত্র গ্যাং কালচারে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে হুটহাট যে কাউকে আক্রমণ করতে দ্বিধা করে না। গত দুই বছরে তাদের হাতে নিহত হয়েছে ছয় কিশোর। আহত হয়েছে অন্তত ৫০ জন।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বলেন, গ্যাং কালচার দমনে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে জনসচেতনতামূলক সভা করছি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×