নবাবগঞ্জ উপজেলা রিসোর্স সেন্টার

পাশের ঘরে যাতায়াতের বিল ২৮০০ টাকা!

  বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর শফিকুল ইসলাম তার অফিস কক্ষের সঙ্গে লাগোয়া ট্রেনিং সেন্টারে যাতায়াতের বিল নিয়েছেন ২ হাজার ৮০০ টাকা। এরকমভাবে তিনি দুই লাখ ৩৩ হাজার ৭৩০ টাকার ভৌতিক বিলের টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নবাবগঞ্জ উপজেলার শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগে জানান, ২০১৭ সালে শফিকুল ইসলাম উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে ইন্সট্রাক্টরের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উপজেলার শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি, অপমান, অপদস্থ, গালাগাল ও হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। অথচ তিনি নিজে স্বনামে-বেনামে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শিক্ষকদের অভিযোগে প্রকাশ, গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে ৩৫টি ট্রেনিং হয়েছে। এসব ট্রেনিংয়ে প্রশিক্ষক ও কোর্স কো-অর্ডিনেটর দু’জনের আলাদাভাবে খাবারের বিলসহ ভাতা গ্রহণের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ইন্সট্রাক্টর শফিকুল ইসলাম কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজেই প্রশিক্ষক ও কোর্স কো-অর্ডিনেটরের দুটি ভাতা ও একই সঙ্গে দুটি খাবারের বিল উত্তোলন করেছেন। কয়েকটি ট্রেনিং একই দিন অনুষ্ঠিত হলেও ইন্সট্রাক্টর আলাদাভাবে খাবারের বিলসহ ট্রেনিং ভাতা গ্রহণ করেছেন। এমনকি ইন্সট্রাক্টরের অফিস কক্ষ সংলগ্ন ঘরে প্রতিটি প্রশিক্ষণ হলেও ইন্সট্রাক্টর যাতায়াতের জন্য আলাদা বিল তুলে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া ৩৫টি প্রশিক্ষণকালে সাপোর্ট সার্ভিস (পিয়ন) হিসেবে সাহিদা খাতুন ও আবীর আলী দু’জনের নামে দৈনিক ৯৬০ টাকা হারে অর্থ উত্তোলন করেছেন। বাস্তবে সাহিদা খাতুনকে দৈনিক ৪০০ টাকা হারে প্রদান করলেও আবীর আলী নামে কোনো লোক ট্রেনিংকালে উপস্থিত ছিলেন না। এ আবীর আলী ইন্সট্রাক্টর শফিকুল ইসলামের অষ্টম শ্রেণী পড়–য়া সন্তান হওয়ায় তার ভুয়া নামে অর্থ উত্তোলন করে ইন্সট্রাক্টর শফিকুল সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এভাবে ইন্সট্রাক্টর শফিকুল ইসলাম বিভিন্ন ভুয়া বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষণকালে সাপোর্ট সার্ভিস (পিয়ন) সাহিদা খাতুন বলেন, ট্রেনিংয়ের সময় দৈনিক ৪০০ টাকা হারে পেয়েছি। মাগুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান আলম বলেন, ২০১৮ সালে প্রায় ৩০ জন শিক্ষক সঙ্গীত বিষয়ে ছয় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে সবার মধ্যে তাকে স্বাক্ষরবিহীন সনদ প্রদান করা হয়। পরে তিনি ইন্সট্রাক্টর শফিকুল ইসলামকে স্বাক্ষরবিহীন সনদ প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আপনি ফেল করেছেন। এ ব্যাপারে ইন্সট্রাক্টর শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি দুই লাখ ৩৩ হাজার ৭৩০ টাকার বিল তুলেছেন। তবে অডিটে আপত্তি ধরা পড়লে তিনি টাকা ফেরত দেবেন। তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×