কিশোরগঞ্জে খালে বাঁধ দিয়ে ফিশারি ও পোলট্রি ফার্ম!

পানিবন্দি হয়ে সাতটি পরিবারের মানবেতর জীবন

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাচীন একটি খালে বাঁধ দিয়ে ফিশারি ও পোলট্রি ফার্ম গড়ে তোলায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় কাশোরারচর গ্রামের সাতটি পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খালের ছয়টি স্থানে বাঁধ দিয়ে ব্যক্তিগত পুকুর ও পোলট্রি ফার্ম গড়ে তোলায় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই আশপাশের সাতটি পরিবারের বাড়িঘরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। গত সাত বছর ধরে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। খাল ও নদী উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণার পর আশার আলো দেখছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ-ভোগান্তির শিকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। জানা গেছে, দীর্ঘদিন আগে থেকে কাশোরারচর গ্রামের আবদুল আজিজের বাড়ির সামনে থেকে আবদুল মোতালিবের বাড়ির সীমানা হয়ে কাশোরারচর বিল পর্যন্ত একটি খাল প্রবাহমান ছিল। এ খালটিই ছিল গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম। আর এজন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ আবদুল আজিজের বাড়ির সামনের রাস্তায় খালটির প্রবেশ মুখে একটি রিং কালভার্টও নির্মাণ করে। পাঁচ-ছয় বছর আগে এলাকাবাসীর বাধা ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে প্রভাবশালী আবদুল আজিজের ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম রিং কালভার্টের প্রবেশ মুখটি বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে ব্যক্তিগত ফিশারি ও পোলট্রি ফার্ম গড়ে তোলে। এ নিয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য লোকজনকে নিয়ে দেনদরবারে করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। আর এ সুযোগে গ্রামের অপর প্রান্তের প্রভাবশালী হোসেন আলীর ছেলে বাদল মিয়াসহ আরও চার ব্যক্তি খালের পানি প্রবাহ পথ বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে গ্রামের পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ না থাকায় বর্ষাকালে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পথঘাট ডুবে গিয়ে গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানের সাতটি দরিদ্র পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। চলতি বর্ষাকালের শুরুতেই পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এ সাতটি পরিবার। ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে দরিদ্র কৃষক দীন ইসলাম ও আফির উদ্দিন জানান, এ পরিস্থিতে এ সাতটি পরিবারের শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়াসহ যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। প্রথমে বাঁধ দিয়ে খালের প্রবেশপথ বন্ধকারী মুজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, এ সমস্যা সমাধানে বাস্তবমুখী কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে তিনি সহযোগিতা করবেন। অপরদিকে, মহিনন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনসুর আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি যুগান্তরকে জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়ে খাল দখলকারী অপরিণামদর্শী লোকজনের অসহযোগিতায় ব্যর্থ হয়েছেন। এবার যেহেতু খাল-নদী ও পানি প্রবাহপথ উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে, সেহেতু এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা চাইবেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×