ফরিদপুর ও বাউফলে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৩৫

  ফরিদপুর ব্যুরো ও বাউফল প্রতিনিধি ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। সোমবার সকাল ৭ টায় উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ইউসুফদিয়া বাজারে যাওয়া নিয়ে সোমবার সকালে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামানের সমর্থকদের সঙ্গে প্রতিপক্ষ এনায়েত হোসেনের সমর্থকদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে উভয় দলের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন ঢাল-কাতরা, সড়কি-ভেলা, ইটপাটকেল ও রামদা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করে। দু’ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে শিপন, শাহজাহান, লিটন, রস্তম সরদার, নুরুদ্দীন, সাহেদ মীর, মুক্তার হোসেনসহ উভয় দলের অন্তত ২৫ জন আহত হয়। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে বাউফলে জমি নিয়ে সংঘর্ষ থামাতে গেলে উপসহকারী পরিদর্শক মো. মাইনুদ্দিন নামে এক পুলিশ সদস্যের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে অস্ত্র ও গুলিভর্তি ম্যাগাজিন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন বাউফল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. মাইনুদ্দিন (২৯), কনস্টেবল লক্ষণ সেন (৩০), কনস্টেবল ইমরান (৩৫), ইলিয়াস (২০), ধোপা (৪৫), কামাল (৪০), আলম (৪০), নাজমা বেগম (২৫), মনোয়ারা বেগম (৫০), নুরভানু বেগম (৫০), দুলাল (৪৫), আরিফুল ইসলাম (১৮), অলিউল্লাহ (১৪), আবু বকর (২৮), সিরাজুল ইসলাম (৬৩), মাকসুদা বেগম (৩৫), শহিদুল (১৮)।

আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইলিয়াস, নাজমা বেগম, মাকসুদা ও শহিদুল ইসলামকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মইনুল হাসান। সোমবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। এ ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে বাউফল থানা পুলিশ।

স্থানীয়, আহত এবং পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, বড় ডালিমা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ হাওলাদারদের সঙ্গে হাকিম হাওলাদারদের ১৯ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সকালে ওই কালাম ও খালেকের নেতৃতে অপর অংশীদারগণ ওই জমিতে চাষাবাদ করতে যায়। চাষাবাদ ঠেকাতে প্রতিপক্ষের লোকজন পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে যায় বাউফল থানা পুলিশের উপ-সহকারী পরিদর্শক মাইনুদ্দিন ও অপর দুই পুলিশ সদস্য। এ সময় পুলিশ সদস্যদের দেখে উভয় পক্ষ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারের মেয়ে মাকসুদা ও আবদুল আলী হাওলাদারের মেয়ে নাজমা বেগমের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের নিবৃত্ত করতে গেলে উপ-পরিদর্শক মাইনুদ্দিনের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে তাকে মারধর করে তার সঙ্গে থাকা পিস্তল এবং গুলিভর্তি ম্যাগাজিন ছিনিয়ে নেয়। পরে বড় ডালিমা গ্রামের আলম হাওলাদারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নারিকেল গাছের চূড়া থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পিস্তল ও গুলিভর্তি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×