আলোর পথে সহস্রাধিক মাদকসেবী

বরিশালে দেড় বছরে ২৮৭ জনের পুনর্বাসন

  সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল ব্যুরো ২৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাকিম হাওলাদার। বাড়ি বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের উত্তর লেবুজিলবুনিয়া গ্রামে। এক বছর আগেও তার স্বজনদের জন্য তিনি ছিল দুর্ভাবনা আর হতাশার কারণ। পরিবারের বোঝা আর সমাজের জন্য ছিল পুরোদস্তুর আতঙ্ক। হেরোইন, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদকে আসক্ত হয়ে চুরি, ছিনতাইসহ এমন কোনো খারাপ কাজ নেই, যা তারা করত না। কখনও সে ভাবেনি সেই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে এসে নতুন করে পরিবারের হাল ধরতে পারবে। এই সমাজে বাঁচবে নিজের মর্যাদা নিয়ে। কিন্তু সেই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই আজ হাকিম হাওলাদারসহ বিভাগের ১ হাজার ১৫৫ মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী আলোর পথে ফিরে এসেছে। অনুপ্রেরণা আর বাস্তব সহায়তা পেয়ে বদলে ফেলেছেন নিজেকে। আর এমন একটি বাস্তবমুখী কাজ করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম। বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত দেড় বছরে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ১ হাজার ১৫৫ মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছে। এর মধ্যে ২৮৭ জনকে অন্ধকার পথ থেকে আলো পথে ইতোমধ্যে ফিরে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। পুনর্বাসনের পর্যায়ে রয়েছে ৮৯৫ জন। এর মধ্যে বেশি করেছে বরিশাল জেলায় ১৯০ জন, পটুয়াখালীতে ১৫৭ জন, ভোলা ১৫৫, বরগুনা ১৪৮, ঝালকাঠীতে ১৪১ জন এবং পিরোজপুর জেলায় ১০৪ মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। এছাড়া বরিশালের ৬ জেলায় মদকসেবী নিরাময় কেন্দ্রের ভর্তির হালনাগাদ তথ্য মতে, ৬ জেলায় মোট ২৬০ জন মাদকসেবী নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যায় ২২১ জন। বর্তমানে নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছে ৩৯ জন। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় মদকসেবী নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির সংখ্যা ৩৭ জন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যায় ৩৩ জন। বর্তমানে মাদকসেবী নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছে ৪ জন। পটুয়াখালী জেলায় মদকসেবী নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির সংখ্যা ৪০ জন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যায় ২৬ জন। বর্তমানে মাদকসেবী নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছে ৪ জন। ভোলা জেলায় মদকসেবী নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির সংখ্যা ৪৯ জন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যায় ৩৮ জন। বর্তমানে মাদকসেবী নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছে ১১ জন। বরগুনা জেলায় মদকসেবী নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির সংখ্যা ৪৩ জন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যায় ৩৭ জন। বর্তমানে মাদকসেবী নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছে ৬ জন। পিরোজপুর জেলায় মদকসেবী নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির সংখ্যা ৩৩ জন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যায় ২৯ জন। বর্তমানে মাদকসেবী নিরাময় কেন্দে চিকিৎসাধীন আছে ৪ জন। ঝালকাঠী জেলায় মদকসেবী নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির সংখ্যা ৫৮ জন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যায় ৪৯ জন। বর্তমানে মাদকসেবী নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছে ১০ জন।

৬ জেলার মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের পরিসংখ্যান তথ্যমতে, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের মোট ২৮৭ জনকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। রিকশাচালক মজিবর মুন্সি বলেন, মাদক সেবন কিংবা বিক্রি করলে মানুষ খারাপ বলে। তাই তিনি ভালো হতে চান। এ কারণেই পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। বরিশালের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কমিউনিটিং পুলিশিং বা অন্য কোনো সভায় প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মাদক। তাই সুস্থ জীবনে ফিরে যেতে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘মাদকসেবী বা ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের উৎসাহিত করে তাদের সহায়তা নিয়ে মাদকসেবী বা ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেসব মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে, তাদের একত্র করে অঞ্চলভিত্তিক সমবায় সমিতি গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে তার। যা নিঃসন্দেহে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে একটি বিরাট ভূমিকা পালন করবে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×