রামগঞ্জে সরকারি গুদামে সিন্ডিকেট করে ধান বিক্রি

ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক

  রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধান বিক্রি

রামগঞ্জ উপজেলায় চলতি বছর বোরো মৌসুমে কৃষকদের পরিবর্তে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা।

চলতি বছর রামগঞ্জ উপজেলাব্যাপী প্রথম ধাপে ৩৮৩ জন কৃষকের কাছ থেকে ২৬০ টন ও দ্বিতীয় ধাপে ৯০১ জন কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ৪৩৪ টন ধান ক্রয় করার কথা থাকলেও স্থানীয় এক কাউন্সিলর উপজেলার কয়েকজন নেতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে তারা কৃষি কার্ড সংগ্রহ করে অসহায় কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিমণ ধান ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে কিনে সরকারি খাদ্যগুদামে ১ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৩ মে থেকে এ উপজেলায় চলতি বছরের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। এ বছর রামগঞ্জে ২৬ টাকা কেজি দরে ৪৩৪ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, বাজারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ মুনাফা পাওয়ায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে নিচ্ছে। তারা কিছু কৃষককে ম্যানেজ করে তাদের কৃষি কার্ড ব্যবহার করে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করছেন। কৃষকরা খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে ধান কেনা শেষ বলে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। কৃষকরা ধান দিতে না পেরে রামগঞ্জ খাদ্যগুদাম চত্বরে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাজারে প্রতিমণ ধানের দাম ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা। সরকারিভাবে প্রতিমণ ধান কেনা হচ্ছে ১ হাজার ৪০ টাকায়। ইছাপুরের কৃষক হানিফ, আনোয়ার, রাঘাবপুরের কৃষক ইকবাল ও জসিম বলেন, সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে যাওয়ার পর কৃষকদের বলা হচ্ছে ধান কেনা শেষ।

পরে জানা যায় স্থানীয় প্রভাবশালী এক কাউন্সিলরসহ তার সিন্ডিকেটের কয়েকজনের কাছ থেকে গুদামের কর্মকর্তারা ধান কিনছেন। কৃষকদের কাছ থেকে কার্ড নিয়ে খাদ্যগুদামে ধান দিচ্ছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। ধান সংগ্রহের চূড়ান্ত কৃষক তালিকায় মৃত ব্যক্তি ও কৃষক নন এমন ব্যাক্তিদের নামও রয়েছে।

উপজেলার ভাদুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন বলেন, প্রকৃত কৃষকরা গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। আমার ইউনিয়নের অনেক কৃষক আমার কাছে অভিযোগ করেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, কৃষকদের ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দেয়ার কথা বলে তাদের কৃষি কার্ড নিচ্ছেন স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীরা। কৃষকের পরিবর্তে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করছেন, এমন অভিযোগ এখন সবার মুখে মুখে।

রামগঞ্জ খাদ্যগুদামের ওসি এলএসডি ইসমাইল হোসেন জানান, ৪৩৪ টনের মধ্যে মাত্র ২ টন ধান সংগ্রহ করেছি। তবে স্থানীয় এমপির নির্দেশের পর বর্তমানে ধান সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় এমপি ড. আনোয়ার হোসেন খান জানান, ধান ক্রয়ের বিষয়ে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের কারণে অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও ওসি এলএসডিকে ধান ক্রয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×