বোরো সংগ্রহ অভিযান

মাদারীপুরে কৃষকের ধান সিন্ডিকেটের কবলে

  মাদারীপুর প্রতিনিধি ২৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাদারীপুর জেলার ৪টি উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি বোরো ধান ক্রয়ে সিন্ডিকেটের হাতে নেয়ার পাঁয়তারা চলছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মাদারীপুর সদর গুদামে ২২০ টন, চরমুগরিয়া গুদামে ১৯৯ টন, রাজৈর গুদামে ৫৪২ টন, কালকিনি গুদামে ৪৭৫ টন ও শিবচর গুদামে ২৭৭ টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এসব ধান সরাসরি কার্ডধারী কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে সর্বোচ্চ ৩ টন এবং সর্বনিু ১২০ কেজি ধান সংগ্রহ করা যাবে। জেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০ জুন বরাদ্দ এলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন উপজেলার খাদ্যগুদামে উপরোল্লেখিত বরাদ্দ প্রদান করেন।

১৭ জুলাই পর্যন্ত সরেজমিন দেখা গেছে, মাদারীপুর সদর ও চরমুগুরিয়া গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি বোরো ধান ক্রয় করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন পরিবহনে ধান নিয়ে কৃষক লাইন দিয়ে বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছেন। মাদারীপুর সদর গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান খান জানান, তার গুদামে প্রথম পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে ২২০ টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তিনি ৭ জুলাই থেকে সংগ্রহ শুরু করে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ১৫০ টন ধান সংগ্রহ করেছেন। অপরদিকে চরমুগুরিয়া গুদামে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ প্রদান করা হয় ৩১২ টন, যার মধ্যে সোমবার পর্যন্ত ক্রয় করা হয়েছে ২৩০ টন।

এদিকে দ্বিতীয় পর্যায়ে শিবচর গুদামে বরাদ্দ প্রদান করা হয় ২৭৭ টন; যার মধ্যে সোমবার পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৫ টন। রাজৈর গুদামে দ্বিতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ ৫৪২ টন। তবে সোমবার পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ৮১ টন এবং কালকিনি গুদামের ৪৭৫ টন বরাদ্দের বিপরীতে সোমবার পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ১৬৬ টন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালকিনি, রাজৈর ও শিবচর গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি বোরো ধান সংগ্রহে কৃষকদের বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করে পরবর্তিতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাইকার বা ব্যবসায়ীদের থেকে শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে টার্গেট পূরণ করা হবে। এতে ধান উৎপাদনকারী কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সরকারের কৃষকদের জন্য দেয়া প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হবে প্রকৃত কৃষক, লাভবান হবে মধ্যস্বত্বভোগী। সিন্ডিকেটের কথা অস্বীকার করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শেফাউর রহমান বলেন, কিছু অনভিপ্রেত ঘটনার কারণে কোনো কোনো গুদামে সংগ্রহ অভিযানে দেরি হচ্ছে। তবে যেহেতু আগস্ট মাস পর্যন্ত সময় আছে এর মধ্যে সবার টার্গেট পূরণ হবে আশা করছি। সমস্যা হচ্ছে কৃষকদের তালিকা করার দায়িত্ব কৃষি বিভাগের। তাদের তালিকা যথাযথ না হলে সিন্ডিকেট করতে পারে। তালিকা যথাযথ না হলে কৃষক তাদের কার্ড সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবহার করে কিছু নগদ সুবিধা নিতে পারে। কাজেই কৃষি বিভাগ যদি প্রকৃত ধান উৎপাদনকারীর তালিকা করে তাহলে কিন্তু সিন্ডিকেট করেও কোনো লাভ হবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×