পশুর হাটে দালালদের দৌরাত্ম্য: নওগাঁয় ক্রেতা-বিক্রেতারা বিপাকে

  নওগাঁ প্রতিনিধি ০১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পশুর হাট

নওগাঁয় গবাদিপশুর হাটে ঈদ সামনে রেখে দালালদের (মধ্যস্থতাকারী) দৌরাত্ম্য বেড়েছে। দালালরা নিজেদের তৈরি সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে প্রতারিত করছেন ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

মানুষকে বোকা বানানোর জন্য তৈরি দালালদের নিজস্ব এ ভাষা। এটি গরুর দালালি ভাষা বলে পরিচিত। জানা গেছে, গবাদিপশুর হাটে দালালরা কিছু সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করেন। ক্রেতা-বিক্রেতাকে বুঝতে না দেয়ার জন্য দালালদের মধ্যে ভাষাটি প্রচলিত আছে যেটি তারাই তৈরি করেছেন।

এ ভাষা শুধু তারাই বোঝেন। তবে কখন থেকে এ ভাষার প্রচলন হয়েছে তা কেউ জানেন না। ঈদ সামনে রেখে উপজেলার প্রতিটি হাটে দালালি ভাষায় পরাস্ত হয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন পশু ক্রেতা-বিক্রেতারা। দালালদের কাছে এক রকম জিম্মি হয়ে পড়েছেন তারা। হাটগুলোতে যত গরু-ছাগল তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দালাল। গরুপ্রতি গড়ে ২ থেকে ৩ জন করে দালাল। তাছাড়া ব্যবসায়ীরা তো আছেনই।

ব্যবসায়ীদের কথা- গত বছর কোরবানির হাটে এত দালাল ছিল না। জেলার রানীনগর উপজেলার ত্রিমোহিনী হাট, মহাদেবপুর উপজেলার মহাদেবপুর হাট, মাতাজি, হাট-চকগৌরী হাট ও নিয়ামতপুর উপজেলার ছাতড়া হাটসহ বিভিন্ন হাটে গিয়ে দেখা যায়, গরু দালালদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ক্রেতা-বিক্রেতা। কোনটা দালাল আর কোনটা বেপারি বোঝাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গরু বেচাকেনার সময় ক্রেতার সামনে গরুর মালিক বা বিক্রেতাকে আসতেই দেন না তারা। আর গরু বিক্রির সঙ্গে কমপক্ষে দু’জন দালাল থাকে। তারা গরুটি প্রকৃতপক্ষে কত টাকায় বিক্রি হল তা বিক্রেতাকে জানতে দেন না। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাকে একটি বিক্রয় দাম আগেই বলে থাকেন। বিক্রেতারা হাটে গরু নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দালাল চক্রের হাতে পড়তে হচ্ছে।

প্রতিটি হাটে সংঘবদ্ধ দালালরা কৌশলে গরু-ছাগল বিক্রির জন্য বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। দালালদের ভাষায় বিক্রেতাদের গিরিহাটি ও ক্রেতাদের মাছি বলা হয়। দালালরা তাদের নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করে ক্রেতা-বিক্রেতার চোখ ফাঁকি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকে। বলা হয়- ‘পুঁজি ছাড়াই ব্যবসা।’ দালালদের সাংকেতিক ভাষাগুলো হচ্ছে বুন্নিশত-৫০০, বান্ডিল ও দিকশো-১ হাজার, সিংহী হাজার-৩ হাজার, ডোংগা-২ হাজার, আরানী-২ হাজার ৫০০, চামটি হাজার-৪ হাজার, বুন্নি হাজার-৫ হাজার, টিপি হাজার-৬ হাজার, ঝালি হাজার-৭ হাজার, বর্ষি-৮ হাজার, খুটাল-৯ হাজার, দিক-১০ হাজার, কালাই-১১ হাজার, বছর-১২ হাজার, মিডি-১৩ হাজার, দু’ঝালি-১৪ হাজার, দু’বর্ষি-১৬ হাজার, ধোলাই-১৭ হাজার, দু’খুটাল-১৮ হাজার, তেরি-১৯ হাজার, দু’বান্ডিল বা ঝুড়ি-২০ হাজার, দু’কালাই-২২ হাজার, পোয়া-২৫ হাজার, বুন্নি বান্ডিল-৫০ হাজার। ‘চার বান্ডিল ডোংগা হাজার খাপ’ বলতে বোঝায়’-৪০ হাজার ভেঙে দুই হাজার নিচে অর্থাৎ ৩৮ হাজারের মধ্যে। আবার চার বান্ডিল ডোংগা হাজার ওপর বলতে বোঝায় ৪২ হাজারের বেশি। নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে এ বছর জেলার ১১ উপজেলায় ৩২ হাজার ২৪২ খামারে প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ১১৫ কোরবানির পশু প্রতিপালন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ৬০৭ ষাঁড়, ২২ হাজার ৭৯ বলদ, ৬৬ হাজার ৩৮ গাভি, ৩ হাজার ৩৫২টি মহিষ, ৯৩ হাজার ৬৮৪ ছাগল, ২৫ হাজার ২৩ ভেড়া ও ৩৩২ অন্যান্য পশু।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×