যত্রতত্র অবৈধ পশুর হাট রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

  বানারীপাড়া, কোম্পানীগঞ্জ, বেতাগী ও কেন্দুয়া প্রতিনিধি ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বরিশালের বানারীপাড়ায় একাধিক অবৈধ পশুর হাট বসেছে। এক্ষেত্রে তারা সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার করে তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে রসিদ ছাপিয়ে গরুপ্রতি শতকরা ৩ থেকে ৫ টাকা হারে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। প্রতিদিন এসব পশুর হাট থেকে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করার কারণে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঁচটি অবৈধ পশুর হাট বসার কারণে একমাত্র বৈধ পশুর হাটের পশু বিক্রি কমে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বৈধ পশুর হাটের ইজারাদাররা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। এক্ষেত্রে অবৈধ পশুর হাটের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, বানারীপাড়ার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঁচটি অবৈধ পশুর হাট বসার কারণে একমাত্র বৈধ পশুর হাট সীমান্তবর্তী এলাকার সলিয়াবাকপুর-গুয়াচিত্রা পশুর হাটের পশু বিক্রি কমে গেছে। শুক্রবার ওই হাটের ইজারাদার মিলন মৃধা এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর ও ঝলকাঠি উপজেলার গুয়াচিত্রা পশুর হাটে দুই উপজেলা থেকে পৃথকভাবে ইজারা নিয়ে দুই জেলার সীমান্তবর্তী গুয়াচিত্রা গরুর হাট নামে পরিচিত একটি পশুর হাট বসানো হয়েছে। এখানে স্থানীয় পশুর পাশাপাশি ব্যাপারীরা দেশের সিমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলার ও ট্রাকযোগে অসংখ্য গরু নিয়ে আসছেন। তাদের হাটে আসা শত শত গরু বিক্রি করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন তারা। এর কারণ হিসেবে ইজারাদার মিলন মৃধা বলেন, বানারীপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলায় একাধিক অবৈধ পশুর হাট বসার কারণে তাদের হাটে পশু বিক্রি অনেকটা কম হচ্ছে। এদিকে বরগুনার বেতাগীতে অবৈধভাবে সড়কের ওপর কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছে। উপজেলার কাজীরহাট বাজার সংলগ্ন সড়কের ওপর অবৈধভাবে কোরবানির পশুর হাট বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পথচারীদের চলাচলে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে জমজমাট হয়ে উঠছে এ পশুর হাট। ফলে বেড়েছে মানুষের পদচারণা। যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপও বেড়ে চলেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ হাটে সড়কের ওপর প্রচুর ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম। সড়কের ওপর বসেই বিক্রি করা হচ্ছে কোরবানির পশু। সড়কের ওপর মানুষ ও পশুর পাশ ঘেঁষে যাতায়াত করছে এ রুটে চলাচলকারী মিনিবাস, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ইটভর্তি মাহেন্দ্রা ও মালবাহী ট্রাকসহ ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন। হাট সংলগ্ন করুণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মন্নান বলেন, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ হলেও কোরবানির হাট ছাড়াও সড়কের ওপর হাট বসায় সবসময় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এর ফলে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও কোরবানির ফলে বেশি মানুষের সমাগমের কারণে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। হাটের ইজারাদার কাজী পলাশ জানান, জায়গার সংকটের কারণে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজীব আহসান বলেন, সড়কের ওপর যাতে পশুর হাট বসানো না হয় সে বিষয়ে ইতিমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারপরও অমান্য করলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

অপরদিকে সরকারি নির্দেশ ও সব নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি স্কুলমাঠ, বসুরহাট-কবিরহাট সড়ক, চাপ্রাশিরহাট, বামনী, বাংলাবাজার, চৌধুরীহাট, লোহারপোল বাজার, চঁড়াভিটি, ব্র্যাক অফিস ও দিনার দোকানসহ প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্রভাবে পশুর হাট বসিয়েছে প্রভাবশালীরা। এ বিষয়ে যথাস্থানে অভিযোগ করেও ফল পাননি ভুক্তভোগীরা। উপজেলার বেশ কয়েকটি স্কুল মাঠে জমজমাটভাবে পশুর হাট বসিয়েছেন রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। বামনী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, মধ্য চরকাঁকড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ বেশ কয়েকটি স্কুলমাঠে পশু হাটে পশু বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। স্কুল মাঠ, প্রধান প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর দু’পাশে পশুর হাট বসানোর ফলে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। কোনো কোনো স্কুল মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানোর পর আয়ের টাকা স্কুল ফান্ডে ও সরকারি ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের জনতা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবৈধ পশুরহাট বসানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় প্রভাবশালীরা এ হাট বসিয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে বিদ্যালয় মাঠজুড়ে পশুর বর্জ্য পড়ে থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী নিয়মবহির্ভূতভাবে জনতা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পশুর হাট বসায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×