ঈদে মুখরিত বিনোদন কেন্দ্র

  যুগান্তর ডেস্ক ১৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিনোদন কেন্দ্র

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। কর্মব্যস্ত নগর জীবনের ক্লান্তি ঘোচাতে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটাতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে আসছে বিনোদন পিপাসুরা। যুগান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাঙ্গামাটি : এবার পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে রাঙ্গামাটিতে বিপুল পর্যটকের সাড়া মিলেছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাঙ্গামাটি পাড়ি জমিয়েছেন অগণিত পর্যটক। পর্যটকদের পদচারণায় মুখর পর্যটননগরী রাঙ্গামাটি। রাঙ্গামাটি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সসহ শহরের আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলোতে এখনও পর্যটকে ঠাসা। জানা যায়, গত ঈদুল ফিতরে বৈরীপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের সমাগম ছিল না। বৃষ্টিস্নাত কমে যাওয়ায় এবং টানা বেশকিছু দিনের দীর্ঘ ছুটি পড়ায় এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে পর্যটননগরী রাঙ্গামাটিতে বিপুল পর্যটকের আগমন ঘটেছে। পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু ছাড়াও সদরের আনাচে-কানাচে রয়েছে বিভিন্ন নৈসর্গিক স্থান, স্থাপনা, স্পট, ধর্মীয় তীর্থ ও দর্শনীয় জায়গা। জেলা সদরে রয়েছে জেলা প্রশাসকের বাংলো, পার্ক, জেলা পুলিশের পলওয়েল পার্ক, সুখী নীলগঞ্জ, আরণ্যক, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য চত্বর, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের স্মৃতি ভাস্কর্য, চাকমা রাজার বাড়ি, রাজবন বিহার, বড়গাং, পেদাটিংটিং স্পট, টুকটুক ইকো ভিলেজ এবং সদরের বাইরে বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নে প্রাকৃতিক ঝরনা স্পট ও কাপ্তাইয়ে বহু বিনোদন ও দর্শনীয় স্পট।

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির জেলা শহরের অদূরে রহস্যময় সুড়ঙ্গ, রিছাং ঝরনা এবং জেলা পরিষদের ঝুলন্ত ব্রিজে প্রতিদিনই পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। এছাড়া প্রকৃতির অসামান্য সৌন্দর্য দেখতে পর্যটকরা জেলা সদরের বাইরের পানছড়ি অরণ্য কুটির, নুনছড়ির দেবতা পুকুর, মাটিরাঙার শতবর্ষী বটবৃক্ষ, দীঘিনালা তৈদুছড়া ঝরনা, মায়াবিনী লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় করছেন। অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র রিছাং ঝরনা ও আলুটিলায় পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা বেশ কয়েকজন পর্যটক জানান, ‘খাগড়াছড়ির আলুটিলা কিংবা ঝুলন্ত ব্রিজের কথা শুনেছি। ঈদের বন্ধ পেয়ে বেড়াতে এলাম। পাহাড়ের এমন রূপ দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।’ আলুটিলা থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে রিছাং ঝরনাও পর্যটকের ভিড় লেগে থাকে। শহরের পাশে এমন নান্দনিক ঝরনার আকর্ষণে বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা।

চরফ্যাশন (দক্ষিণ) : চরফ্যাশনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ৮ দিনের ছুটি কাটাতে জ্যাকব টাওয়ার, শিশুপার্ক, বেতুয়া লঞ্চঘাট, মায়াব্রিজ, খামারবাড়ি এবং কুকরি-মুকরি সমুদ্র সৈকতের টানে যান্ত্রিক শহরের মানুষ ছুটে আসছেন চরফ্যাশনে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে ঘিরে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে বিনোদন কেন্দ্রগুলো। বিশেষ করে দৃষ্টি নন্দন জ্যাকব টাওয়ার, শেখ রাসেল ডিজিটাল শিশুপার্ক, ফ্যাশন স্কয়ার, খামারবাড়ী, বেতুয়া লঞ্চঘাট, মায়াব্রিজসহ অসংখ্য বিনোদন কেন্দ্র। টানা ৮ দিন সরকারি ছুটিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অচেনা পর্যটকদের ভিড়। পর্যটক রাসেল বলেন, আমি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে চাকরি করি। মঙ্গলবার সকালে বেতুয়া দিলে লঞ্চে নামলাম। বাংলাদেশে এত সুন্দর জায়গা আছে তা আমার জানা ছিল না। এছাড়াও কুকরি-মুকরিতে রয়েছে সবুজের মিতালী। সেখানে হরিণের ছোটাছুটি আর বাহারি বৃক্ষের সমারোহ। পাখি দেখার টাওয়ার আর রেস্ট হাউস দেখে মন জুড়াবে ভ্রমণপিপাসুদের। পাখিদের কলতান মুগ্ধ করবে আগতদের।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঢল নেমেছে দর্শনার্থীদের। এছাড়াও পদ্মকন্যা নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, ঝরনাধারা, হামহাম জলপ্রপাত, ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বাহক বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য রাজকান্দি বন, শমসেরনগর বিমানবন্দর, প্রাচীন ঐতিহ্যের বাহক লক্ষীনারায়ণ দিঘী, ২শ’ বছরের প্রচীন ছয়চিরী দিঘী, শমসেরনগর বাগীছড়া লেক, আলীনগর পদ্মলেক, মাগুরছড়া পরিত্যক্ত গ্যাসফিল্ড, ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, অপরূপ শোভামণ্ডিত উঁচু-নিচু পাহাড়বেষ্টিত সারিবদ্ধ চা বাগান, শিল্পকলা সমৃদ্ধ মণিপুরী, প্রকৃতির পূজারী খাসিয়া, গারো, সাঁওতাল, মুসলিম মণিপুরী, টিপরা ও গারোসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবন ধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ পর্যটকদের মন ও দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

ডিমলা (নীলফামারী) : ঈদ আনন্দ উপভোগে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ, ১৫৫ একর জমির ওপর বিন্যাবতী রানীর বিশাল দীঘি নীলসাগর, এবার পর্যটকদের বেশি কাছে টেনে নিয়েছে। তাইতো এসব প্রকৃতির বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে চলছে সপরিবারের মানুষের উপচে পড়া ভিড়। পশু কোরবানির ঈদের দিন সবাই ব্যস্ততা কাটিয়ে এখন চলছে ঘুরে বেড়ানোর উৎসব। কৃত্রিম বিনোদন কেন্দ্রের চেয়ে প্রকৃতির বিনোদনের আনন্দ উল্লাসের রয়েছে ভিন্নতার আমেজ। তাই তো ভিন্নজগত, স্বপ্নপুরী, আনন্দনগর এবং মায়া-কাননের কৃত্রিমতার বিনোদন কেন্দ্রগুলো এবার ঈদ উৎসবে খুব একটা কাছে টানতে পারেনি।

টেকেরহাট (মাদারীপুর) : মাদারীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে গড়ে ওঠা শকুনী লেগেরপাড়, পৌর পার্ক, রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা কমপ্লেক্সের সামনে ও খালিয়া শান্তি কেন্দ্রে বিনোদন পেতে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। সোমবার বিকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে এসব বিনোদন কেন্দ্রে চারপাশ শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রথমবারের মতো শহরবাসী পেয়েছেন পৌর পার্ক।

আগৈলঝাড়া : ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিনোদনে ভ্রমণপিপাসুদের দখলে ছিল বরিশালের আগৈলঝাড়া পয়সারহাট ব্রিজে মিলনমেলা। নাড়ির টানে ঈদে গ্রামের বাড়িতে আসা লোকজনসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার ভ্রমণপিপাসু যুব কিংবা পৌঢ়দের একান্তভাবে সময় কাটানো বা চিত্ত বিনোদনের কোনো সুযোগ না থাকায় ঈদ ও ঈদ-পরবর্তী পুনর্মিলনী কেন্দ্র হিসেবে অনেকেই বেছে নিয়েছেন ব্রিজটিকে।

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) : বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিনোদন ভ্রমণপিপাসুদের দখলে ছিল বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাধবপাশার দুর্গাসাগর লেক ও দোয়ারিকা ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ব্রিজ মিলন মেলা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×