অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: রোগী আছে, সেবা নেই পানিবন্দি ভবনে দুর্ভোগ

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  তারিম আহমেদ ইমন, অভয়নগর (যশোর)

অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ২৯ জন চিকিৎসকের স্থলে মাত্র ছয়জন দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম।

অপরদিকে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টিতে হাসপাতাল চত্বরে জমেছে হাঁটুপনি। পানিতে থৈথৈ করছে প্রধান ফটকসহ হাসপাতাল চত্বর।

হাসপাতালে কর্মরত প্রধান সহকারী সাদেকুর রহমান আজাদ জানান, ১৯৭৫ সালে স্থাপিত এ হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছিল নিচু। বর্তমানে তৈরি করা পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা উঁচু হওয়ায় নিচু ড্রেন থেকে উঁচু ড্রেনে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। যার কারণে হাসপাতাল চত্বরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। শনিবার সকালে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকসহ হাসপাতাল চত্বরে হাঁটুপানি জমে গেছে।

ফলে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও হাসপাতালে নেই একজনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। গত তিন মাসে হাসপাতালে থাকা তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়া বিশেষজ্ঞরা ছিলেন গাইনি, অর্থোপেডিক্স ও শিশু। এছাড়া গত ৫-৭ বছর ধরে মেডিসিন, হৃদরোগ, চর্ম ও যৌন, চক্ষু, সার্জারি বিশেষজ্ঞদের পদ শূন্য রয়েছে।

দীর্ঘদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর ফলে রোগীরা সেবা নিতে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর শরণাপন্ন হচ্ছেন। এ সুযোগে ক্লিনিক মালিকরা অসহায় রোগীদের কাছ থেকে বেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে হাসপাতালে কর্মচারীদের মধ্যে পাঁচটি পদের বিপরীতে তিনজন সুইপার থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আয়া পদে দু’জন থাকার কথা থাকলেও নেই একজনও। ওয়ার্ডবয়ের তিনটি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে একটি। অফিস সহায়ক পদে সাতজনের মধ্যে আছেন মাত্র দু’জন। অপরদিকে মাঠ পর্যায়ে ৪৫ জন স্বাস্থ্য সহকারীর পদে কর্মরত আছেন মাত্র ২৫ জন স্বাস্থ্য সহকারী। স্বাস্থ্য সহকারীর ২০টি পদ শূন্য থাকায় মাঠ পর্যায়েও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাঘাত ঘটছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে আউটডোরে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ রোগী সেবা পেয়ে থাকেন।

৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও ইনডোরে ৭০-৮০ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় দুই লাখ মানুষ একমাত্র এ সরকারি হাসপাতালের আওতায় চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভরশীল। শিল্প ও বাণিজ্য শহর নওয়াপাড়ার হতদরিদ্র মানুষ চিকিৎসা নিতে ছুটে আসেন একমাত্র সরকারি এ হাসপাতালে। প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ৬০০ রোগী সেবা নিতে এসে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক না থাকায় চরমভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অপরদিকে হাসপাতালে থাকা পাঁচজন মেডিকেল অফিসার ও একজন ডেন্টাল সার্জন হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। বেশ কিছুদিন শূন্য থাকার পর সম্প্রতি অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

হাসপাতালের এসব বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এসএম মাহমুদুর রহমান রিজভী জানান, তিনি হাসপাতালে যোগদানের পর চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এবং জলাবদ্ধতার বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে হাঁটুপানি সম্পর্কে নওয়াপাড়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহ জোবায়ের হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি এবং পানি সরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করছি। এ বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালকের দফতরে জানানো হয়েছে। আশা করছি অতি দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট কেটে যাবে।