৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলা: সাতক্ষীরায় সাক্ষীর অভাবে ঝুলে আছে ছয় মামলা

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মামলা

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার সেই ভয়াল ১৭ আগস্ট পার হল শনিবার। ২০০৫ সালের এ দিনে সাতক্ষীরাসহ দেশের ৬৪ জেলার ৬৩টি একযোগে কেঁপে উঠেছিল বোমার ভয়াবহতায়।

নিষিদ্ধ জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) জঙ্গির সেই সিরিজ বোমা হামলার ১৪ বছর পূর্তি। সাতক্ষীরায় এখন পর্যন্ত সিরিজ বোমার ছয়টি মামলার সবক’টিই বিচারের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে আদালতে। আদালতে আসামিদের হাজির করা গেলেও সাক্ষীর খোঁজ থাকে না। আবার সাক্ষী হাজির হলেও অনেক আসামি থাকছেন দেশের অন্য কোনো প্রান্তের জেলে।

এ জটিলতার কারণে বিচার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিরিজ বোমার প্রতিটি মামলায় ১৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। চার্জশিটভুক্ত এ ১৯ আসামির মধ্যে গ্রেফতার ১৩ জনের দু’জন জামিনে আছেন এবং ছয়জন এখনও পলাতক রয়েছেন। সাতক্ষীরার পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) তপন কুমার দাস বলেন, নানা কারণে মামলাগুলোর ধার্য দিন বারবার পরিবর্তন হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন আদালতে এ মামলার অন্য আসামিদের নামে মামলা থাকায় তাদেরকে যথাসময়ে আদালতে হাজির করানো যাচ্ছে না।

এমনকি সাক্ষীদেরও যথাসময়ে হাজির করানো সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই মামলাগুলো ঝুলে রয়েছে বলে জানান তিনি। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট শহরের শহীদ রাজ্জাক পার্ক, জেলা জজ আদালত চত্বর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত চত্বর, বাস টার্মিনাল ও খুলনা মোড়সহ পাঁচটি স্থানে একযোগে এ বোমা হামলা ও নিষিদ্ধ লিফলেট ছড়ানোর ঘটনা ঘটে। দেশব্যাপী একসঙ্গে সিরিজ বোমার এ ঘটনার পর সাতক্ষীরাই প্রথম জেলা যেখানে ঘটনার পাঁচ ঘণ্টার মাথায় প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী ধরা পড়ে বোমা নিক্ষেপকারী জেএমবি জঙ্গি নাসিরউদ্দিন দফাদার। এছাড়া শহরের রসুলপুরে জেএমবির একটি ঘাঁটিও চিহ্নিত করে গুঁড়িয়ে দেয় পুলিশ।

উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও জঙ্গি প্রশিক্ষণের বই ও সরঞ্জাম। প্রথম গ্রেফতার জঙ্গি নাসিরউদ্দিনের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একে একে ধরা পড়ে জেএমবি জঙ্গি মনিরুজ্জামান মুন্না, আনিসুর রহমান খোকন, মনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, মাহবুবুর রহমান লিটন, মো. গিয়াসউদ্দিন, বেল্লাল হোসেন, ইসমাইল হোসেন, মো. সাইফুল্লাহ, মামুনুর রশীদ, মোন্তাজ আলী, মো. আলমগীর ও নূর আলী মেম্বার। তাদের মধ্যে গিয়াসউদ্দিন ভারতীয় নাগরিক। গ্রেফতার সবাইকে ঢাকায় জেআইসিতে (জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠানো হয়। সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া ছাড়াও জেএমবির বহু গোপন তথ্যও জানান তারা। পরে তাদের ফিরিয়ে আনা হয় সাতক্ষীরায়।

এদিকে এ মামলার চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের ফখরুদ্দিন রাজি, যশোরের কেশবপুরের বায়সা গ্রামের আসাদুজ্জামান হাজারি, সাতানির আবুল খায়ের, কলারোয়ার পাটুলি গ্রামের নাঈমুদ্দিন, তলুইগাছার মমতাজউদ্দিনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তাদের মধ্যে কয়েকজন রয়েছেন আফগান যোদ্ধা। গ্রেফতার হওয়া সব আসামিই সাতক্ষীরার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গ্রেফতার মনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল ও আনিসুর রহমান খোকন ২০১১ সালের জুনে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।

এর কিছুদিন পর তারা আবারও গ্রেফতার হলেও ফের জামিন লাভ করেন তারা। ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ সিআইডি সব মামলায় ১৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। সে বছরই মামলাগুলো খুলনার দ্রুত বিচার আদালতে পাঠানো হয়। যথাসময়ে নিষ্পত্তি না হওয়ায় ২০০৭ সালের ২৫ জুন মামলাগুলো খুলনা থেকে ফেরত আসে সাতক্ষীরায়। ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে মামলাগুলোর বিচার কাজ শুরু হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×