ডেকে চাদর পেতে জায়গা বিক্রি

আমতলী ও স্বরূপকাঠি থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছাড়ছে লঞ্চ

  আমতলী (বরগুনা) ও স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদুল আজহার সপ্তম দিন রোববার ঢাকাগামী এমভি ইয়াদ ধারণক্ষমতার চেয়ে চারগুণ যাত্রী নিয়ে আমতলী লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে গেছে। লঞ্চের স্টাফরা ৯০ শতাংশ ডেকের যাত্রীর কাছে চাদর ও তোশক বিছিয়ে জায়গা বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রতিবাদ করলেই যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীসাধারণের দুর্ভোগ লাগবে আমতলীতে এমভি সুন্দরবন-৭, এমভি হাসান-হোসেন ও এমভি ইয়াদ নামের তিনটি লঞ্চ সার্ভিস রয়েছে। এ লঞ্চগুলো ধারাবাহিতভাবে আমতলী-ঢাকা নদীপথে চলে আসছে। ঈদুল আজহার সপ্তম দিন রোববার এমভি ইয়াদ লঞ্চ ধারণক্ষমতার চেয়ে চারগুণ যাত্রী নিয়ে আমতলী লঞ্চঘাট ছেড়ে গেছে। এ লঞ্চের ধারণক্ষমতা ৩৯৬ জন যাত্রী। আমতলী লঞ্চঘাট থেকে এক হাজারের অধিক যাত্রী নিয়ে দুপুর ২টায় ছেড়ে যায়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র শুল্ক আদায়কারী বেলাল মিয়া। এ ছাড়া ওই লঞ্চে ডেকের ৯০ শতাংশ যাত্রীদের লঞ্চের স্টাফদের চাদর ও তোশক বিছিয়ে রাখা জায়গা উচ্চমূল্যে কিনে বসতে হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করলে লঞ্চ স্টাফ ও তাদের দালাল চক্র যাত্রীতে নির্যাতন করছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। প্রতিটি চাদর ও তোশক বিছানো জায়গা ২০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। যাত্রীরা জানান, লঞ্চের স্টাফরা ডেকের সব জায়গায় বিছানার চাদর ও তোশক বিছিয়ে রাখেন। চাদর ও তোশক বিছানো ছাড়া কোনো জায়গা থাকে না। ওই বিছানায় বসলেই লঞ্চের লোকজন এসে উঠিয়ে বিছানা বিক্রি করা হয়ে গেছে বলে দাবি করে। উপায় না পেয়ে তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকায় জায়গা কিনতে হচ্ছে। তারা আরও জানান, এর প্রতিবাদ করতে গেলেই তারা লাঞ্ছিত করতে আমাদের দিকে তেড়ে আসে এবং মারধর করতে উদ্যত হয়। রোববার সরেজমিন এমভি ইয়াদ লঞ্চ ঘুরে দেখা গেছে, ওই লঞ্চে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। লঞ্চের ছাদসহ সব জায়গায় যাত্রীরা আসন পেতে বসে আছেন। দুপুর ২টার দিকে এক হাজারের বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি আমতলী লঞ্চঘাট ছেড়ে চলে গেছে। কলাপাড়া এলাকার মহাসিন মিয়া ও পটুয়াখালীর সুমন বলেন, খুব সকালে এসে দেখি লঞ্চের ডেকে বিছানার চাদর ও তোশক বিছানো। ওই চাদর ও তোশকে বসামাত্রই নাম না বলে লঞ্চের স্টাফ পরিচয় দিয়ে টাকা চাচ্ছেন।

এমভি ইয়াদ লঞ্চের সুপার ভাইজার মো. শামীম হোসেন লঞ্চে ধারণক্ষমতার চেয়ে যাত্রী বেশি নেয়া ও ডেকের জায়গা বিক্রি করার কথা স্বীকার করে বলেন, লঞ্চের কোনো স্টাফ বিছানার চাদর ও তোশক বিছিয়ে জায়গা বিক্রি করছে না। লঞ্চঘাটের কিছু লোক এ কাজটি করছে। আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়েছি। লঞ্চের ডেকে চাদর ও তোশক বিছিয়ে জায়গা বিক্রি করার সাথে যারা জড়িত তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কমলেশ চন্দ্র মজুমদার বলেন, ডেকে চাদর অথবা তোশক বিছিয়ে জায়গা বিক্রি করার বিষয়টি আমি জানি না। এমন কাজ হয়ে থাকলে লঞ্চে অভিযান চালিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ছুটছেন পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির কর্মজীবী মানুষ। ঈদের ছয় দিন পরেও স্বরূপকাঠি ও ইন্দুরহাট লঞ্চঘাটে যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ ছিল না। লঞ্চের কেবিনের টিকিট যেন সোনার হরিণ। লঞ্চের ডেকে বসারও একটু জায়গা সংগ্রহ করতে যাত্রীরা হিমশিম খাচ্ছিলেন। অপর দিকে বাসের টিকিটও মিলছে না। এখানে যানবাহন না পেয়ে অনেক মানুষ বরিশালের পথে রওয়ান হয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটছেন পরিবার পরিজনসহ কর্মস্থলের দিকে। শনিবার উপজেলার স্বরূপকাঠি ও ইন্দুরহাট লঞ্চঘাটে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ছিল উপচে পড়া ভিড়। স্বরূপকাঠি থেকে ওইদিন বিকালে অগ্রদূত প্লাস, মর্নিং সান-৯, ফারহান-১০, ঈগল-৮ ও টিপু নামের পাঁচটি দ্বিতল লঞ্চ ধারণক্ষমতার অধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। লঞ্চে সিট না পেয়ে বিকল্প পথে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে অনেক যাত্রীকে বরিশাল যেতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×