তিস্তার বুকে ধু-ধু বালুচর

  কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে, পাড় হয়ে যায় গরু পাড় হয় গাড়ি, দুই ধার উঁচু তার ঢালু তার পাড়ি।’ কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতার সঙ্গে প্রমত্তা তিস্তার মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। বৈশাখ মাসে নয় ফাল্গুনেই তিস্তার বুকজুড়ে এখন ধু-ধু বালুচর আর ফসলের মাঠ। খরস্রোতা তিস্তা এখন শীর্ণ মরা খালে পরিণত হয়েছে। তিস্তার বুকে এখন আর দেখা যায় না পালতোলা বা ব্যবসায়ীদের বড় বড় নৌকা। ঘাটে ঘাটে নেই যাত্রীদের হইচই আর কোলাহল। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত এই তিস্তা নদী। এ বছর পানিপ্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়ে ডালিয়া পয়েন্ট থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত ৭৫ কিলোমিটার নদীর বুকজুড়ে ধুধু বালুচর পড়েছে। ভারত থেকে বয়ে আসা তিস্তা নদী নীলফামারী জেলার খড়িবাড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তিস্তা নদীর উজানে ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার গজলডোবায় বাধ নির্মাণ করে একটি খালের মাধ্যেমে নদী থেকে দেড় থেকে দুই হাজার কিউসেক পানি মহানন্দা নদীতে নিয়ে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশে তিস্তার বর্তমানে কঙ্কালসার ধু-ধু বালু চরে পরিণত হয়েছে। ভারত তিস্তা থেকে পানি প্রত্যাহার করায় তিস্তা সেচ বাঁধ প্রকল্প প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নদীতে পানি না থাকায় জেলায় মৎস্য ঘাটতি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। জীববৈচিত্র্য হুমকির মধ্যে পড়েছে। মৎস্যজীবিদের কর্মহীনতা, কৃষিতে সেচ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই আছে। জেগে ওঠা চরে ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, মরিচ, কুমড়া, তামাকসহ নানা ধরনের রবিশষ্যের চাষ হচ্ছে। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবং স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত ড্রেজিং না করায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে বর্তমানে খরস্রোতা তিস্তা নদী এখন মরা খালে পরিণত হওয়ার পর্যায়ে পড়েছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডসূত্রে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় তিস্তার পানিপ্রবাহ অস্বাভিক হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে চলতি মৌসুমে চাষীরা ইরি-বোরো চাষ নিয়ে উদ্বিঘœ হয়ে পড়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×