মহেশপুরে তিন কোটি টাকার ধানবীজ আত্মসাতের পাঁয়তারা

৪ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

  ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহের মহেশপুরের দত্তনগর কৃষি খামারের চার উপ-পরিচালককে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এরা হলেন- দত্তনগর কৃষি খামারের গোকুলনগর ইউনিটের উপ-পরিচালক তপন কুমার সাহা, করিঞ্চা খামারের উপ-পরিচালক ইন্দ্রজিৎ চন্দ্র শীল, পাথিলা কৃষি খামারের উপ-পরিচালক আক্তারুজ্জামান তালুকদার ও যশোর বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রের উপ-পরিচালক মো. আমিন উল্যা। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সচিব আবদুল লতিফ মোল্লা স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ আদেশ দেয়া হয়েছে। বরখাস্ত করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তদন্তে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ১২৯ টন ধানবীজ খামারে মজুদ করার তথ্য গোপন করে আত্মসাতের বিষয় প্রমাণিত হয়েছে। বিএডিসির ওয়েবসাইট এ খবর নিশ্চিত করেছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো পৃথক স্মারকের চিঠি সূত্রে জানা যায, বিধি বহির্ভূতভাবে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দত্তনগরের, গোকুলনগর, পাথিলা ও করিঞ্চা বীজ উৎপাদন খামারে ২০১৮-১৯ উৎপাদন বর্ষে অতিরিক্ত ১২৯.২২ টন এসএল-৮এইচ হাইব্রিড জাতের ধান বীজ গুদামে মজুদ করা হয়। বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য এ মজুদের তথ্য গোপন রাখা হয়। এমনকি প্রক্রিয়াজাত বীজ গুদামে রাখার চালানের কোনো তথ্য-প্রমাণও নিজ নিজ খামারের উপ-পরিচালকের দফতরে রাখা হয় না।

হঠাৎ করে এ বিষয়টি বিএডিসির ওপর মহলে জানাজানি হয়ে পড়ে। উচ্চপর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে দুর্নীতির সেই খবর। তদন্ত কমিটির প্রধান মহাব্যবস্থাপক বীজ (বিএডিসি) নুরুননবী সর্দার সম্প্রতি এ সংক্রান্তে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে অবৈধভাবে ধান বীজ গুদামে মজুদ রাখার বিষয়টি ফুটে ওঠে। সেই মোতাবেক ৯ সেপ্টেম্বর বিএডিসি সচিব স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লিখিত কর্মকতূাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, যশোর বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রের উপ-পরিচালক মো. আমিন উল্যা দত্তনগর কৃষি খামারের গোকুলনগর, করিঞ্চ, পাথিলা ইউনিটের উপ-পরিচালকদের সঙ্গে যোগসাজশে নিজ দায়িত্বে থাকা গুদামে ১২৯.২২ টন এসএল-৮এইচ হাইব্রিড জাতের ধান বীজ মজুদ রেখে দেন। যার বাজারদর প্রায় ৩ কোটি টাকা। সুযোগ বুঝে এ বীজ বাজারে বিক্রির করে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। অভিযোগ করা হয়েছে প্রতি বছর সরকারি অর্থে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত ধান বীজ অভিনব কৌশলে খামার থেকে বিক্রি করে দেয়া হয়। একটি সংবদ্ধ চক্র এ কাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এ ধরনের দুর্নীতির ঘটনা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×