নাটোরে বিসিআইসি সার গুদাম প্রকল্প ঝুলে আছে

  যুগান্তর রিপোর্ট, নাটোর ও বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গুদাম

নাটোরে স্থান নির্ধারণ জটিলতায় প্রায় দু’বছর ধরে ঝুলে আছে ২০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার বিসিআইসি সার গোডাউনের নির্মাণ কাজ। স্থানীয় চার সংসদ সদস্য-প্রতিমন্ত্রী নিজ নিজ এলাকায় বাফার গোডাউনটি নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বরাবর ডিমান্ড লেটার (ডিও) দেয়ায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

এমনকি এ কারণে প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রস্তুতিও আটকে আছে। এদিকে সংসদ সদস্যদের এসব প্রস্তাবে বাদ সেধেছেন সার ডিলার ও ব্যবসায়ীরা। শহরের চকবৈদ্যনাথে পুরাতন গোডাউনের পাশেই এটি নির্মাণ করার দাবি তাদের। সূত্র জানায়, বর্তমানে চকবৈদ্যনাথে বিসিআইসির ৮ হাজার ও বিএডিসির ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার দুটি গোডাউন রয়েছে।

এর মধ্যে ৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার গোডাউন থেকে নাটোরের সাত উপজেলাসহ অন্তত ১০টি উপজেলার ৬৬ জন ডিলার এখান থেকে সার উত্তোলন করে আসছেন। রেল ও সড়কযোগাযোগ সুবিধা থাকার কারণে পরিবহন খরচ কম লাগার পাশাপাশি ব্যাংক সুবিধা পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সূত্রটি আরও জানায়, দ্রুত কৃষকদের দোরগোড়ায় রাসায়নিক সার পৌঁছে দিতে জেলায় আরও একটি ২০ হাজার মেট্রিক টন সার গোডাউন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)।

কিন্তু যোগাযোগ অপ্রতুল নলডাঙ্গা উপজেলায় গোডাউনটি নির্মাণের জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন সদর আসনের সংসদ সদস্য। শুধু তিনিই নন, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি সিংড়ায়, অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস এমপি গুরুদাসপুরে ও শহিদুল ইসলাম বকুল এমপি লালপুরে গোডাউনটি নির্মাণের জন্য বিসিআইসি চেয়ারম্যান বরাবর পৃথক পৃথক ডিও লেটার দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, সার গোডাউনটি নির্মাণের জন্য চার এমপি ও প্রতিমন্ত্রী ডিও লেটার দিলেও বিসিআইসি নাটোর সদরে গোডাউনটি নির্মাণ করতে চায়। এজন্য জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির দুটি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নাটোরে নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাস হয়। তবে নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল জেলার নলডাঙ্গায় গোডাউনটি নির্মাণের জন্য ডিও লেটার দিলে বিপত্তি ঘটে সেখানেই। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিসিআইসি সার গোডাউনটি নলডাঙ্গায় নির্মাণ হলে সুবিধার চেয়ে অসুবিধা হবে বেশি।

যার কারণে গোডাউনটি বর্তমানে চকবৈদ্যনাথে নির্মাণের জোর দাবি ডিলার ও ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে বাফার গোডাউনের পাশেই রেলওয়ের ৩২ বিঘা জমি রয়েছে। সেখানে গোডাউনটি নির্মাণ হলে জেলার সব ডিলার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এফবিসিসিআই পরিচালক ও নাটোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান বলেন, ‘নলডাঙ্গা উপজেলায় গোডাউনটি নির্মাণ করা হলে ব্যবসায়ী ও কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। কারণ নলডাঙ্গায় গোডাউনটি নির্মাণ করা হলে ডিলাররা ব্যাংক সুবিধা ও যাতায়াত সুবিধা পাবেন না।

তাছাড়া ডিলারদের নিরাপত্তার একটি বিষয় রয়েছে। আমি নাটোর সদরে নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’ বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) নাটোর জেলা শাখার সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, জেলার সর্বোচ্চ সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির দুটি সভায় ২০ হাজার টন ধারণক্ষমতার বাফার সার গোডাউনটি বর্তমানের সার গোডাউন এলাকায় নির্মাণের জন্য সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সে সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না।

আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের স্বার্থে গোডাউনটি নাটোর সদরে নির্মাণ করা না হলে সার উত্তোলন এবং সরবরাহ বন্ধসহ আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ বিষয়ে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, গোডাউনটি বর্তমানে নাটোরের বাফার গোডাউনের পাশে নির্মাণের জন্য সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু চার সংসদ সদস্য তাদের নিজ নিজ এলাকায় নির্মাণের জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন। এজন্য বিসিআইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×