নোংরা পরিবেশে চা উৎপাদন

আবদুর রব, বড়লেখা ও আবদুর রাজ্জাক রাজা, কমলগঞ্জ

  মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সরকারি চা বাগান নিউ সমনবাগ ও কমলগঞ্জের দেওরাছড়া চা বাগানেই চলছে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে চা উৎপাদন। নতুন চায়ের সঙ্গে মেশানো হয় বর্জ্য চা। বেসরকারি চা বাগানগুলোর চা উৎপাদন ব্যবস্থা আরও নাজুক। এতে চায়ের মাধ্যমে যক্ষ্মাসহ নানা কঠিন রোগের জীবানু সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেকোনো সময় জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকির কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে। এমন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কারখানায় বাংলাদেশ চা বোর্ড ও স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো নজরদারি নেই। জানা গেছে, মৌলভীবাজারে বাংলাদেশ চা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন তিনটি চা বাগান রয়েছে। এগুলো হল- বড়লেখার নিউ সমনবাগ, পাথারিয়া ও কমলগঞ্জের দেওরাছড়া চা বাগান। এরমধ্যে পাথারিয়া চা বাগানের কারখানায় সম্প্রতি আধুনিক মেশিনারিজের মাধ্যমে চা উৎপাদন শুরু হলেও সেখানেও পুরোপুরি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চা তৈরি হচ্ছে না। এসব চা বাগানের কারখানায় মার্চের প্রথম থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চা উৎপাদনের কাজ চলে। একেকটি কারখানায় প্রতিদিন ২ থেকে ৫ টন পর্যন্ত চা উৎপাদন হয়ে থাকে। বড়লেখার নিউ সমনবাগ ও কমলগঞ্জের দেওরাছড়া চা বাগানের কারখানায় অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে এবং বর্জ্য চা মিশিয়ে চা উৎপাদন হচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিউ সমনবাগ চা বাগানের চা কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, চা ম্যানুফেকচারিং কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা গ্লাবস, অ্যাপ্রোন ও মাথায় ক্যাপ ছাড়াই নগ্ন পায়ে ও খালি হাতে কাজ করছেন। অপরিচ্ছন্ন ফ্লোরে উৎপাদিত চা ফেলে রাখা হয়েছে। পাশেই রয়েছে বর্জ্য চা। যা অনেক আগেই বিনষ্ট করার কথা। এর ওপর দেদারে খালি পায়ে শ্রমিক ও স্টাফরা চলাফেরা করছেন। এতে পায়ে লেগে থাকা ময়লা এবং শরীর থেকে ঝরে পড়া ঘাম উৎপাদিত চায়ের সঙ্গে মিশছে। শ্রমিকরা প্রাকৃতিক কাজকর্ম সেরে যথাযথভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না হয়ে ফের চা উৎপাদন কাজেও লেগে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, ‘চা’ খাবার দ্রব্যের মধ্যেই পড়ে। এ পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত শ্রমিকদের অবশ্যই মেডিকেল ফিটনেস থাকতে হবে। অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশে চা উৎপাদন করলে চায়ের মাধ্যমে নানা সংক্রামক রোগব্যাধি ছড়াতে পারে। যা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহজাহান কবীর জানান, চা পাতা বয়েল্ড করে খাওয়ায় সাধারণত জীবাণুগুলো নষ্ট হয়ে যায়। তারপরও পুরোপুরি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশেই তা উৎপাদন করতে হবে। শ্রমিকদের ফিজিকেল ফিটনেস ও যক্ষ্মাসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগব্যাধি মুক্ত এবং উৎপাদিত পণ্য স্বাস্থ্যের পক্ষে নিরাপদ কি না, তা বাগান কর্তৃপক্ষকেই নিশ্চিত করতে হবে। নিউ সমনবাগ চা বাগানের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী খান জানান, এ চা কারখানাটি একশ’ বছরের পুরনো। এটি আধুনিক কোনো ফ্যাক্টরি নয়, তাই বাস্তবতা ও নিয়মকানুন ভিন্ন। ফ্যাক্টরি শ্রমিকদের জুতা, গ্লাবস, ক্যাপ ও অ্যাপ্রোন সবই আছে, কিন্তু তারা গরমে তা পরতে চায় না। তবে তারা ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হবেন। এজন্য এভাবেই চা উৎপাদন কাজ চলে আসছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×