টাকা ছাড়া মেলে না স্বাক্ষর

নাজিরপুর ও বাউফলে এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষায় অনৈতিক কারবার

  নাজিরপুর ও বাউফল প্রতিনিধি ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পিরোজপুরের নাজিরপুরে এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষার খরচ বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি দাখিলসহ উপজেলার ৫টি কেন্দ্রের সচিব, হল সুপার ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে জানা গেছে, প্রতি পরীক্ষার্থীর ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৩শ’ থেকে ৬শ’ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এতে উপজেলার প্রায় ২৫৮৬ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকার বেশি আদায় করা হয়েছে। পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, মানবিক ও বাণিজ্য শাখার জন্য আড়াইশ’ থেকে ৩শ’ আর বিজ্ঞান শাখার জন্য ৫-৬শ’ টাকা করে নেয়া হয়েছে। এছাড়া অনিয়মিত বা ফেল করা (ক্যাজুয়াল) পরীক্ষার্থীদের জন্য ২শ’ টাকা করে। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে প্রতি বিষয়ের জন্য শিক্ষার্থী প্রতি ১শ’ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। উপজেলার মাটিভাঙ্গা কেন্দ্রে সোমবার কৃষি শিক্ষা বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া উপজেলার বরইবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেহেদী হাসান জয় জানায়, ওই বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য তার বিদ্যালয়ের কৃষিশিক্ষা শিক্ষক সুপ্রসাদ রায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দেড়শ’ টাকা করে নিয়েছেন। এছাড়া ওই কেন্দে র পলাশডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রকিব গাজী জানায়, তাদের বিদ্যালয়ে কৃষিশিক্ষা ম্যাডাম শিউলি কির্তনিয়া ৫শ’ টাকা করে আদায় করেছেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক কির্তনিয়া ও সুপ্রসাদ এ টাকা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে জানতে ওই কেন্দ সচিব উপজেলার আ. গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অজিত মালাকার জানান, আমার কেন্দ্রে মাত্র ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী। এদের বিপরীতে যে কেন্দ্র খরচ আসে তা দিয়ে খরচ সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পরামর্শে কেন্দ্রের খরচ বাবদ শিক্ষার্থী প্রতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দেড়শ’ আর মানবিক ও বাণিজ্যের জন্য ১শ’ টাকা করে নেয়া হয়েছে। এছাড়া গাওখালী কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রের অধীনে থাকা স্কুলগুলোর শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ রয়েছে। ওই কেন্দ্রের কলারদোয়ানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীপ্রতি বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ৪শ’ আর মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের জন্য আড়াইশ’ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, কেন্দ্র সুপারের চাহিদা অনুযায়ী ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পাঠানো শিক্ষকদের খরচ দিতে বিজ্ঞানে ৩শ’ আর মানবিক ও বাণিজ্যে আড়াইশ’ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রের সুপার পরিতোষ চন্দ্র মিত্র জানান, কেন্দ্রের অধীনে থাকা সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে প্রতি বিষয়ের জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ২৫ টাকা করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এদিকে পটুয়াখালীর বাউফলেও এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এ উপজেলায় পরীক্ষার নামে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ৫শ’ থেকে হাজার টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক জানান, এ টাকার ভাগ সংশ্লিষ্ট সবাই পেয়ে থাকেন বিধায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। বাউফলের বাজেমহল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য মো. শামীম মুন্সী। শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষকরা একদিকে টাকা নিচ্ছেন অপরদিকে ব্যবহারিক খাতায় স্বাক্ষর করছেন।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পারভীন বেগমের কাছে জানতে তার মুঠোফোনে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি লাইনটি কেটে দেন।

pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter