ঘিওরে এলজিএসপি ১০ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে প্রকল্পের তালিকা তৈরি

  মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম মৌহালী। পিচ ঢালা রাস্তার পাশের গ্রাম হলেও এ গ্রামের মধ্যকার একমাত্র রাস্তাটির অবস্থা করুণ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারিভাবে মৌহালী পূর্বপাড়ার গনি মিয়ার বাড়ি থেকে আজমের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা মেরামতের জন্য এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ২১ হাজার টাকা বরাদ্দ হলেও ফেলা হয়নি এক টুকরি মাটিও।

পুরো টাকা উঠিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় বড়টিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহিনুর রহমান সমিরের বিরুদ্ধে। মেম্বারও অবলিয়ায় স্বীকার করেছেন এলজিএসপির প্রকল্পের বরাদ্দকৃত মৌহালী পূর্বপাড়া গনির বাড়িতে আজমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় কোনো মাটি ফেলা হয়নি। তবে তার দাবি, ওই সড়কের অন্য প্রান্তে সমপরিমাণ টাকার মাটির কাজ করা হয়েছে।

মৌহালী রাস্তার উন্নয়ন কাজের লুটপাটের অনুসন্ধান করতে বেরিয়ে আসে বড়টিয়া ইউনিয়নের আরও নয়টি প্রকল্পের কাজেও নয়ছয়ের বিস্তর অভিযোগ। সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘিওরের বড়টিয়া ইউনিয়নে এলজিএসপির ১০টি প্রকল্পে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৭ টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব প্রকল্পে রাস্তা মেরামত, রাস্তায় ইটের সোলিংকরণ, পাইপ ও বক্স কালভার্ট নির্মাণসহ একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে আসবাব সরবরাহ করার কথা রয়েছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় মন্ত্রণালয় থেকে এ বরাদ্দ আসে। বিধি অনুযায়ী, মাইকিং করে বা ঢোল পিটিয়ে সভা আহ্বান করে ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে জনসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্পের কাজ গ্রহণ করার কথা, কিন্তু তা করা হয়নি। এমনকি এলজিএসপি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কোনো সভাও হয়নি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রকল্পগুলোর সভাপতি নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী প্রকল্প তালিকা তৈরি করেছেন। অনুগত সদস্যদের প্রকল্প কমিটির সভাপতি বানিয়ে কাজ না করে বা আংশিক করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এরই মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর বড়টিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল গনি লিখিত অভিযোগ করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ হোসেন বলেন, প্রকল্পের বরাদ্দ অনুযায়ী অর্থবরাদ্দ ছিল অপ্রতুল। এ কারণে প্রকল্প অনুযায়ী কাজ করা সম্ভব হয়নি। এখানে অর্থ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তার বলেন, এসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

অভিযোগের সূত্র ধরে ১৪ সেপ্টেম্বর ওই ইউনিয়নের মৌহালী পূর্বপাড়া গ্রামের গনির বাড়ির থেকে আজমের বাড়ি পর্যন্ত বরাদ্দকৃত রাস্তা গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন বছরের সাত মাস খাদা খন্দল ও জলাবদ্ধতায় এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরায় কষ্টকর ও সমস্যা হয়। এই রাস্তায় এখনও বাঁশের সাঁকো রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফাইজুদ্দিনের ছেলে শাহীনুর রহমান মোল্লা, একই এলাকার বাসিন্দা স্বপন, আজাদ, এনজিওকর্মী আবদুল আলিমের সঙ্গে কথা হলে তারা সবাই জানালেন রাস্তা সংস্কারে সরকারি টাকার কোনো মাটি ফেলা হয়নি।

সরেজমিন দেখা গেছে, কলিয়া গ্রামের ইটের সোলিং থেকে সমুর (সামছুদ্দিন) বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিং প্রকল্পের জন্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে আলমগীর হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত আংশিক কাজ করা হয়।

এ প্রকল্পের সভাপতি বড়টিয়া ইউপির ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আবদুল বাতেন বলেন, বরাদ্দের টাকার স্বল্পতার কারণে প্রকল্প অনুযায়ী কাজ করা যায়নি। একটি টাকাও আত্মসাৎ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।এছাড়া শ্রীবাড়ি মোতালেব হোসেনের বাড়ি থেকে আহমদ আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় ইটের সোলিংকরণে প্রকল্পের জন্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, মোতালেবের বাড়ি থেকে সোনামুদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত আংশিক কাজ করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের সভাপতি বড়টিয়া ইউপির ৭নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল হাশেম বলেন, যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, সেই টাকায় প্রকল্প অনুযায়ী কাজ করা যায়নি। নতুন করে আবার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×