অভিভাবকহীন যবিপ্রবি ছাত্রলীগ

চার বছরেও নেই কমিটি

  যশোর ব্যুরো ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ৪ বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ রয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও আসেন না ক্যাম্পাসে। ফলে নতুন কমিটি না হওয়ায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে সংগঠনটির কার্যক্রম। পদে আসতে আগ্রহী ছাত্রলীগের নেতারাও হতাশ। তাদের দাবি, ছাত্রলীগের কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেক ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে অনেক অসঙ্গতি থাকলেও প্রতিবাদ করার কেউ নেই। তবে বর্তমান কমিটির সভাপতি-সম্পাদক বলছেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নতুন কমিটিকে তারাও স্বাগত জানাবে। নিয়মিত শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের হাল ধরুক। নতুন নেতৃত্ব হতে হবে মাদকমুক্ত, সাংগঠনিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করবে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৬ মে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সুব্রত বিশ্বাসকে সভাপতি ও এসএম শামীম হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরমেয়াদি যবিপ্রবি ছাত্রলীগের ৫৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। চার বছর আগে সেই কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় এক বছর ধরে ক্যাম্পাসে নেই সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস। তার কর্মীদের অভিযোগ, তিনি ক্যাম্পাসে আসেন না। এমনকি কর্মীদের ফোনও ধরেন না। তবে সুব্রত বিশ্বাসের দাবি, মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসে যান তিনি। অপরদিকে ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সম্পাদক এসএম শামীম হাসান আর ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি। কমিটির অধিকাংশ নেতা বিবাহিত ও চাকরিজীবী। তারা ক্যাম্পাসে নেই। অল্প সংখ্য নেতা সক্রিয় আছে। এতে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন কমিটি না হওয়ায় হতাশ রাজপথের সক্রিয় নেতাকর্মীরা। নতুন নেতৃত্বে আসতে আগ্রহীদের দাবি সংগঠনকে গতিশীল করতে অবিলম্বে কমিটি ঘোষণা করা হোক।

যবিপ্রবি হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানি বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় ছাত্রলীগ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিমাতাসূলভ আচরণের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছে না সংগঠনটি। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া নিয়েও কথা বলতে পারছে না। শহীদ মশিয়ুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, যেকোনো ছাত্র সংগঠন গতিশীল হওয়ার পূর্বশর্ত নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। সেটি যবিপ্রবি ছাত্রলীগের নেই। যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক আফিকুর রহমান আয়ন বলেন, সভাপতি-সম্পাদক ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত। কমিটির বেশিরভাগ নেতা চাকরিজীবী ও বিবাহিত। কমিটির অল্প সংখ্যক নেতা রাজপথে সক্রিয় আছেন। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সম্পাদক এসএম শামীম হাসান বলেন, আমরা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছি। আমিও চাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে নতুন নেতৃত্ব আসুক। আর সেটি সম্মেলনের মাধ্যমেই হোক। যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস বলেন, কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। আমরাও অনেক দিন নেতৃত্ব দিয়েছি। আমার প্রত্যাশা, কোনো ভাই লীগ নয়, মাদকমুক্ত নিয়মিত শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করবে এমন নেতৃত্ব আসুক। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নতুন কমিটি দিলে স্বাগত জানাব।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×